অনলাইনের বিভিন্ন ফার্টিলিটি বা প্রজননসংক্রান্ত কনটেন্টগুলোয় গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়াতে কী খাওয়া উচিত এ বিষয়ক আলোচনা বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। এসব কনটেন্টে বাজারে নানা ধরনের সাপ্লিমেন্ট ও খাবারকে ‘ফার্টিলিটি-বুস্টিং’ বা প্রজননক্ষমতা বৃদ্ধিকারী হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু এত প্রচার, মিথ ও বিপণনের ভিড়ে আসল বৈজ্ঞানিক তথ্য কী?
গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের সুস্থ বিকাশে ফলিক অ্যাসিডের ভূমিকা প্রমাণিত। গর্ভধারণের আগে ও গর্ভাবস্থায় সময় ফলিক অ্যাসিড শিশুর মস্তিষ্কের জন্মগত ত্রুটি ‘অ্যানেনসেফালি’ ও মেরুদণ্ডের ত্রুটি ‘স্পাইনা বিফিডা’ প্রতিরোধে সহায়তা করে। যেহেতু অনেক গর্ভধারণই অপরিকল্পিত হয়ে থাকে এবং এসব ত্রুটিও সাধারণত গর্ভাবস্থার খুব শুরুর দিকে তৈরি হয়। তাই সন্তান ধারণে সক্ষম নারীদের নিয়মিত ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড গ্রহণের পরামর্শ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)। ২০১৯ সালের একটি জরিপ অনুযায়ী, খাবারে ফলিক অ্যাসিড যুক্ত করার ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২২ শতাংশ জন্মগত ত্রুটি কমানো সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া, গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন এমন নারীদের ক্ষেত্রে ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট গর্ভধারণের সম্ভাবনাও বাড়াতে পারে বলে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও এটি নিশ্চিত করতে আরো গবেষণা প্রয়োজন।
আগে ধারণা করা হতো খাদ্যাভ্যাস কেবল নারীর জন্য জরুরি। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষের খাদ্যাভ্যাস শুক্রাণুর গুণগত মান নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। যেমন—সসেজ বা বেকনের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস প্রজনন ক্ষমতা অর্ধেক কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে চর্বিহীন মাংস বা মুরগির মাংস নিষেকের হার বাড়াতে সাহায্য করে। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ কুইন্সল্যান্ডের গবেষণায় দেখা গেছে, বাবার পুষ্টি ও ওজন ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে।
ডোনাট বা ভাজাপোড়ায় থাকা ‘ট্রান্স ফ্যাট’ বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়ায়। এর পরিবর্তে বাদাম, বীজ, সামুদ্রিক মাছ বা অলিভ অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর চর্বি খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। এছাড়া লাল মাংসের বদলে ডাল বা শিমের মতো উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও পূর্ণ শস্যের কার্বোহাইড্রেট (যেমন লাল চাল বা আটা) প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক।
গর্ভাবস্থায় বা গর্ভধারণের চেষ্টার সময় অ্যালকোহল বা মদ্যপান পুরোপুরি এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। তবে মনে রাখা জরুরি, বন্ধ্যাত্ব একটি জটিল বিষয় এবং এটি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর করে না। তাই খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপ না নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
অনেকেই জানতে চান গর্ভধারণের সম্ভাবনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে এমন কোনো নির্দিষ্ট ‘ফার্টিলিটি ডায়েট’ আছে কি না। এর উত্তর খুঁজতে হলে আগে বন্ধ্যাত্বের কারণগুলো বুঝতে হবে। নারীদের ক্ষেত্রে ডিম্বাশয় সুস্থ ডিম্বাণু উৎপাদনে ব্যর্থ হতে পারে কিংবা জরায়ুর কোনো সমস্যার কারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো একক খাবার বা সাপ্লিমেন্ট বন্ধ্যাত্বের দ্রুত সমাধান দিতে পারে না। তবে পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে সুষম খাদ্যাভ্যাস শরীরকে প্রস্তুত রাখতে সাহায্য করে।
বিবিসি অবলম্বনে