আমাদের পরিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলো পরিবারের শিশুরা। শিশুদের কোলাহল, দুষ্টুমি প্রাণবন্ত করে রাখে ঘর-বাড়ি। বাড়িতে তাই শিশুর আনন্দ এবং আরামের দিকে ও নজর রাখা বুচিত সকলের। শিশুর মানসিক বিকাশে অনেকগুলো বিষয় ভূমিকা রাখে। ঘরের পরিবেশ আরামদায়ক ও সাবলীল না হলে তা শিশুর বিকাশের স্বাভাবিক গতি ব্যহত করে। এমনকি ঘরের সাজসজ্জাও শিশুমনে প্রভাব বিস্তার করে। তাই ঘর সাজানোর সময় শিশুর মন-মানসিকতাকেও প্রাধান্য দেয়া উচিত। কারণ শিশু যদি দেখে যে ঘরে মা-বাবা ও বড়দের ঘরগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে সাজানো হচ্ছে এবং তার ঘরটাও বড়দের মতো করেই সাজানো, তাহলে শিশুরা মন খারাপ করে, অবহেলিত বোধ করে। এটি শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই যদি পরিবারে খুদে সদস্য থেকে থাকে, তাহলে আপনার বাড়ি তার উপযোগী করে সাজানো প্রয়োজন। সেই সঙ্গে শিশুর ঘরটিও সাজাতে পারেন ভিন্নভাবে।
শিশুর ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে যতই আপনার নিজের পছন্দ থাকুক না কেন,শিশুর ইচ্ছেকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, ঘরের অন্দরসজ্জা, তার জিনিসপত্র, দেওয়ালের রং— সব কিছুরই প্রভাব পড়ে ওই ঘরের বাসিন্দা ছোটদের মনে। তিাই শিশুর ঘর সাজানোর সময় মাথায় রাখুন কয়েকটি বিষয়-
১. শিশুর ঘর হবে ছিমছাম। আসবাবপত্রও জবরজং হবে না। ঘরের এক কোণে খেলাধুলোর জন্য ফাঁকা জায়গা থাকা বাঞ্ছনীয়। এতে শিশু তার নিজস্ব পরিসরে বেড়ে উঠতে পারবে। শিশুদের ঘরের মেঝের পরিসর বড় হওয়া জরুরি। তাদের ঘরে বেশি বড় খাটের প্রয়োজন নেই। ঘরে আসবাবপত্র বেশি হয়ে গেলে ওদের চলাফেরা করতে, খেলা করতে অসুবিধা হয়। শিশুর ঘরে রাখার জন্য এমন আসবাব কিনুন যা ভাঁজ করে রাখা যায়। যাতে ঘর গোছালো দেখায় এবং ঘরের জায়গাটাও বাড়ে।
২. বাইরের জগৎ সম্পর্কে শিশুরা খুব বেশি অবগত নয়। কল্পনার রঙে সেই জগতটিকে তারা রাঙিয়ে নেয়। সেই কল্পনাকে উস্কে দিতে ঘরের প্রতিটি কোণায় রাখতে পারেন তাদের পছন্দ অনুযায়ী টুকরো টুকরো জিনিস। এক্ষেত্রে পরিবারের খুদে সদস্যটির সৃজনশীলতার খেয়াল রাখতে হবে আপনাকেই। তার ঘরের এক কোণে সাদা কিংবা কালো বোর্ড রাখতে পারেন। তাতে সে চক, রং দিয়ে আঁকিবুকি কাটতে পারবে। একটু বড় হলে, পরীক্ষার রুটিন কিংবা জরুরি কোনো তথ্যও লিখে রাখতে পারবে সেই বোর্ডে।
৩. ঘরের এক দিকে রাখা যেতে পারে বেশ বড় আকারের একটা আলমারি। সেখানেই গুছিয়ে রাখা থাক বইপত্র, পোশাক এমনকি খেলাধুলোর সামগ্রীও। বাচ্চার ঘরে যেন যথেষ্ট পরিমাণে আলো থাকে সেই বিষয়ে সতর্ক থাকুন। পড়াশোনার সময় কম আলো থাকলে তাদের চোখের ক্ষতি হতে পারে।
৪. জানালার কাছে বই পড়ার জন্য একটি ছোট্ট টেবিলের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেখানে পড়াশোনা বাদ দিয়ে শিশু তার অবসর সময় কাটাতে পারে। শিশুর ঘরেও যেন সবুজের ছোঁয়া থাকে। দেওয়ালে একটু উঁচুতে তাক লাগিয়ে ছোট ছোট গাছ রাখতেই পারেন।
৫. ছোটরা উজ্জ্বল রং পছন্দ করে। তাই তাদের শৈশবকে রাঙিয়ে দিতে ঘরের দেয়ালে তাদের পছন্দ অনুযায়ী রঙের প্রলেপ লাগানো যেতে পারে। চাইলে ব্যবহার করতে পারেন রঙিন ও নকশাদার ওয়ালপেপারও।