ভোজন-আড্ডার আয়োজনে বইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে বুক ক্যাফে

এসব বুক ক্যাফেতে থাকছে সারাদিন বসে বই পড়ার ব্যবস্থা, কোথাও চা কফির সঙ্গে মিলছে হালকা নাশতা। কিছু কিছু বুক শপ মোড়ক উন্মোচন, পাঠচক্র বা লেখক-পাঠক আড্ডার জন্য জায়গাও ভাড়া দিচ্ছে। আড্ডাচ্ছলে বইয়ের সঙ্গে বাড়ছে যোগাযোগ।

ছুটির দিনের দুপুর কিংবা অলস বিকেলে ছিমছাম কোনো জায়গায় বসে পছন্দের বই পড়তে পারলে কেমন হয়? সঙ্গে যদি পাওয়া যায় ধোঁয়া ওঠা কফি বা সরভাসা দুধ চা। একটা বই পছন্দ না হলে আরেকটা। সারি সারি বইয়ের পাশাপাশি কফির গন্ধ, চাপা গুঞ্জন আর সরোদের মৃদু তানের আবহ।

রাজধানীতে এর সবকিছুই একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব। নাগরিক ক্লান্তি ও একঘেঁয়েমি দূর করতে নগরীতে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু বুক ক্যাফে। এসব বুক ক্যাফেতে থাকছে সারাদিন বসে বই পড়ার ব্যবস্থা, কোথাও চা কফির সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে হালকা নাশতাও। কিছু কিছু বুক শপ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, পাঠচক্র বা লেখক-পাঠক আড্ডার জন্য জায়গাও ভাড়া দিচ্ছে। আড্ডাচ্ছলে বইয়ের সঙ্গে বাড়ছে যোগাযোগ।

বইপ্রেমীদের জন্য আজ থাকছে এমন কয়েকটি বুকশপের খোঁজখবর—

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র: দেশজুড়ে বই পড়াকে আন্দোলন হিসেবে প্রথম গ্রহণ করেছিল বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। বাংলামটরে তাদের নিজস্ব ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ বুকশপ। অন্যান্য শপের মতো এখানে চা কফির ব্যবস্থা নেই। তবে হাজার হাজার ধ্রুপদ বই রয়েছে। আর রয়েছে বসে বই পড়ার ব্যবস্থা। দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এখানে বসে যে কেউ তার পছন্দের বই পড়তে পারবে। আর সামান্য ফি পরিশোধ করে বই বাড়ি নিয়েও পড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

বাতিঘর

বাতিঘর: নগরীতে আলোচিত বুকক্যাফেগুলোর একটি বাতিঘর। লাল ইটের দেয়ালের মতো সাজানো হয়েছে বইঘরের দেয়াল। প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে, লক্ষাধিক বই নিয়ে ঢাকার বাংলা মোটরে অবস্থিত বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের অষ্টম তলায় এ বুক শপটির অবস্থান। লালবাগ কেল্লার আদলে নির্মিত ‘বাতিঘর’ এ পাঠকরা তাদের পছন্দের বই নিয়ে পড়তে পারবেন সেখানে বসেই। তাদের জন্য চেয়ারগুলো সাজানো হয়েছে মুঘল রীতি অনুযায়ী।

লালবাগ কেল্লার পরীবিবির মাজারের আদলে নির্মিত একটি মঞ্চও রয়েছে এখানে। যেখানে প্রতিমাসেই কোন না কোন বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়। সেলস কর্নারটি সাজানো হয়েছে ফতেহপুর সিক্রির মতো করে, যেখানে বসে গান করতেন সংগীতজ্ঞ তানসেন। শিশু কর্নারটি সাজানো হয়েছে কাঁচ ও কাঠ খোদাইয়ের বাহারি নকশায়। চাইলে সারাদিন এখানে বসেই বই পড়তে পারে যে কেউ। রয়েছে চা কফির ব্যবস্থা। তবে গ্রাহকরা এখান থেকে কোনও বই বাসায় নিয়ে পড়তে পারবেন না। সপ্তাহে সাত দিনই সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে বইপ্রেমীদের ‘বাতিঘর।’

২০০৫ সালে চট্টগ্রামের চেরাগি পাহাড় মোড় থেকে এর যাত্রা শুরু, দেশের বেশ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে এর আউটলেট রয়েছে।

পাঠক সমাবেশ

পাঠক সমাবেশ: শাহবাগে বই পড়ুয়াদের কাছে পাঠক সমাবেশ বেশ পরিচিত। শাহবাগ মোড়ের জাতীয় জাদুঘর থেকে কাঁটাবনের দিকে কিছুটা এগোলেই আজিজ সুপার মার্কেটের উল্টো দিকে এর অবস্থান। শাহবাগে প্রায় ৬ হাজার বর্গ ফুটের এই জায়গায় লাইব্রেরি ছাড়াও রয়েছে ‘সাইলেন্ট রিডিং রুম’ ও ক্যাফে। খোলা থাকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এছাড়া কাঁটাবনের এলিফ্যান্ট রোডের ২৭৮/৩ ঠিকানায়ও একটি শাখা রয়েছে তাদের।

বেঙ্গল বই

বেঙ্গল বই: চমৎকার ইন্টেরিয়রে সজ্জিত এ বুকশপ ক্যাফেটির অবস্থান ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে। এখানে রয়েছে ‘বারান্দায় কফি’, ‘বইয়ের হাট’, ‘আকাশ কুসুম’, ‘বৈঠকখানা’ ও ‘চিলেকোঠায় কাবাব’ নামের পাঁচটি ভিন্ন আয়োজন। তিন তলা ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলাজুড়ে আছে দেশি-বিদেশি বই। নিচতলায় সব শ্রেণির পাঠকের জন্য আছে পুরনো বই ও ম্যাগাজিন।

এখানে নিয়মিত পাঠচক্র, কবিতা পাঠের আসর, নতুন লেখা ও লেখকের সঙ্গে পরিচিতিমূলক সভা, প্রকাশনা উৎসব, চিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। বেঙ্গল বইয়ের ‘বৈঠকখানা’য় কেউ পুরনো দুটি বই ডোনেট করলে পুরনো সংগ্রহ থেকে একটি নিতে পারবেন। এখানে প্রতি সপ্তাহান্তে শুক্র ও শনিবার ভোর ৭টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত নাস্তার ব্যবস্থা থাকে, আর অন্যান্য দিন সকালে থাকে চা-সিঙারা। প্রতিদিনই সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত যে কেউ এখানে এসে বই পড়তে পারবেন।

পিবিএস: শান্তিনগর মোড়ের পাশেই পাঞ্জেরী বুক শপ; পিবিএস নামেও পরিচিত। এখানে শিশু কর্নারসহ বই নিয়ে আড্ডা দেয়ার সুযোগ রয়েছে। আছে থ্রিডি থিয়েটার ও মিউজিক ক্যাফে। ঢাকায় পিবিএস-এর তিনটি শাখা। এগুলোর অবস্থান শান্তিনগর, উত্তরা ও ধানমণ্ডিতে। সপ্তাহের সাত দিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে পিবিএস।

প্রথমা: রাজধানীর মাদানি এভিনিউয়ের ঢাকা ইউনাইটেড সিটির শেফস টেবিল প্রাঙ্গণে এই ক্যাফের অবস্থান। বই পড়া ও বই কেনার সঙ্গে রয়েছে হাল্কা স্ন্যাক্সের ব্যবস্থাও। পাঠকদের জন্য প্রথমা বুক ক্যাফে খোলা থাকে বিকাল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

ঋদ্ধি বুক ক্যাফে

ঋদ্ধি: মিরপুর ১১ নম্বরের মেট্রো স্টেশনে নেমে পূরবী সিনেমা হলের উল্টোদিকে ঋদ্ধি বুক ক্যাপের অবস্থান। তিন তলা ভবনের নিচ তলার পুরোটা রাখা হয়েছে পড়া ও খাবার জায়গা হিসেবে। দ্বিতীয় তলায় লাইব্রেরি ও আর্কাইভ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের জন্য আলাদা দুটি কর্নার রয়েছে। লাইব্রেরির একটি অংশে রয়েছে কিডস জোন।তিন তলার একটি বাড়িকে নানা আলপনায় সাজানো হয়েছে। এর তৃতীয় তলায় বুক ক্যাফেটি। আছে হলরুম। বিভিন্ন প্রদর্শনী, উৎসব কিংবা মেলা আয়োজন হয় এখানে।

এছাড়া গুলশান এলাকার বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ পার্কে ‘বুকওয়ার্ম বাংলাদেশ’, বনানীর ‘বুকএন্ড’ ‘রিডিং ক্যাফে’, উত্তরার ‘বেস্ট এক্সোটিক বুক স্টোর অ্যান্ড টি হাউজ’ বইপ্রেমীদের জন্য একখণ্ড অবকাশ যাপন কেন্দ্র হয়ে উঠছে।

আরও