মানসিক চাপ জয়ের বড় হাতিয়ার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণবোধ: গবেষণা

কোনো সমস্যার ওপর নিজের ‘নিয়ন্ত্রণ’ আছে—এই বিশ্বাসটুকু থাকলে সেই সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা ৬২ শতাংশ বেড়ে যায়।

ডেডলাইনের চাপ, ঘরের টুকিটাকি সমস্যা কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে সামান্য মনোমালিন্য—খুব সাধারণ একটি দিনকেও বিষাদময় করে তুলতে এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই যথেষ্ট। এসব বিরক্তি যখন পাহাড়সম হয়ে দাঁড়ায়, তখন মানসিক চাপ বা স্ট্রেস সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, প্রতিদিনের এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার চাবিকাঠি আমাদের নিজেদের মনস্তত্ত্বেই লুকিয়ে আছে।

পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো সমস্যার ওপর নিজের ‘নিয়ন্ত্রণ’ আছে—এই বিশ্বাসটুকু থাকলে সেই সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা ৬২ শতাংশ বেড়ে যায়। এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল 'কমিউনিকেশনস সাইকোলজি'-তে।

পেন স্টেটের হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ফ্যামিলি স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড আলমেইডা বলেন, `প্রতিদিনের ছোটখাটো ঝামেলার ওপর আমাদের কতটুকু নিয়ন্ত্রণ আছে, এই বোধটুকু যদি সামান্যও বৃদ্ধি পায়, তবে সেই সমস্যাটি সমাধানের পথ দ্রুত প্রশস্ত হয়।‘

তার মতে, প্রতিদিনের জীবনে নিজের কতটুকু নিয়ন্ত্রণ আছে তা খুঁজে বের করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা সম্ভব।

গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো ঝগড়া মিটিয়ে ফেলা বা বিল পরিশোধের মতো সাধারণ সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করলে মানসিক আবেগ দ্রুত থিতু হয়, যা শরীর ও মনকে সুস্থ রাখে।

গবেষকরা ন্যাশনাল স্টাডি অফ ডেইলি এক্সপেরিয়েন্সের (এনএসডিই) মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর ১০ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীরা প্রতিদিন তাদের মানসিক চাপের কারণ এবং তা সমাধান হয়েছে কি না, সে তথ্য প্রদান করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে:

  • মানুষের ‘নিয়ন্ত্রণ বোধ’ প্রতিদিন পরিবর্তন হয়। অর্থাৎ এটি কোনো স্থায়ী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নয়, বরং পরিস্থিতিভেদে পরিবর্তন ঘটে।
  • যাদের বয়স বেশি, তাদের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বোধের এই সুফল আরো বেশি কার্যকর। ১০ বছর আগে যারা এই বোধের কারণে ৬১ শতাংশ সমস্যার সমাধান করতেন, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সক্ষমতা বেড়ে ৬৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

নিয়ন্ত্রণ বোধ বাড়াবেন কীভাবে?

গবেষণায় মানসিক চাপ কমাতে এবং নিয়ন্ত্রণ বোধ বাড়াতে কিছু কার্যকর উপায়ের কথা বলা হয়েছে:

  • অগ্রাধিকার নির্ধারণ: সবচেয়ে জরুরি কাজটি আগে করুন।
  • বড় চ্যালেঞ্জকে ছোট করা: বড় কোনো সমস্যাকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে সমাধান করুন।
  • চেকলিস্ট ব্যবহার: কাজের তালিকা বা টাইম ব্লকিংয়ের মাধ্যমে আপনার অগ্রগতি ট্র্যাক করুন। এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
  • সাহায্য নেয়া: প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নিন। এটি আপনাকে মানসিকভাবে নিরাপদ এবং নিয়ন্ত্রণে থাকতে সাহায্য করবে।
  • প্রতিদিনের মূল্যায়ন: দিন শেষে ছোট ছোট প্রাপ্তিগুলো নিয়ে চিন্তা করুন, যা আপনাকে পরের দিনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করবে।

গবেষক ডাকোটা উইটজেল জানান, বর্তমানে তারা দীর্ঘমেয়াদী বা ক্রনিক স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে এই ‘নিয়ন্ত্রণ বোধ’ কীভাবে কাজ করে, তা নিয়ে পরবর্তী গবেষণা শুরু করেছেন। জীবনযাত্রার এই ছোট ছোট পরিবর্তনই হতে পারে আধুনিক বিশ্বের মানসিক অস্থিরতার সহজ সমাধান।

সায়েন্সডেইলি অবলম্বনে

আরও