বন্ধুত্বে লুকিয়ে থাকা ঈর্ষা: কীভাবে বুঝবেন, সামলাবেনই বা কীভাবে

সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিই হঠাৎ দূরে সরে যায়, আপনার সাফল্যে উৎসাহ দেখায় না, কিংবা গড়ে তোলে এক অদৃশ্য দেয়াল—এসবই বন্ধুর ঈর্ষাজনিত অভিজ্ঞতা।

নিরাপত্তা, স্বস্তি ও নির্ভরতাপূর্ণ সম্পর্কের নাম বন্ধুত্ব। তবে সবচেয়ে নিবিড় এ সম্পর্কের ভেতরেও কখনো কখনো অচেনা কাঁটা ঢুকে পড়ে। যা ধীরে ধীরে সবকিছু বদলে দিতে পারে। সম্পর্কের সে কাঁটার নাম—ঈর্ষা।

সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিই হঠাৎ দূরে সরে যায়, আপনার সাফল্যে উৎসাহ দেখায় না, কিংবা গড়ে তোলে এক অদৃশ্য দেয়াল—এসবই বন্ধুর ঈর্ষাজনিত অভিজ্ঞতা।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অন্যের সাফল্যে মুগ্ধ হওয়ার মতো খানিকটা হীনম্মন্যতাবোধ করাও স্বাভাবিক। এটি মানবিক আবেগ। কিন্তু তা যদি বন্ধুত্বের ওপর চেপে বসে তখনই তৈরি হয় জটিলতা।

বন্ধুরা যেসব কারণে ঈর্ষান্বিত হতে পারে:

  • আপনার সুখী সম্পর্ক
  • আপনার চেহারা, পোশাক বা ব্যক্তিত্ব
  • বিদেশ যাত্রা ও জীবনযাত্রার মান
  • ক্যারিয়ারের উত্থান বা পদোন্নতি
  • অর্থনৈতিক সচ্ছলতা
  • অন্য বন্ধুদের সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠতা
  • সুন্দর বাড়ি বা নিজের সংগ্রহ

থেরাপিস্ট অ্যাফটন টার্নারের ভাষায়, অধিকাংশ সময় ঈর্ষা জন্ম নেয় নিজের দুর্বলতা থেকে। যারা নিজেকে যথেষ্ট মনে করে না, নিজের ওপর সন্তুষ্ট নয় তারাই বন্ধুর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়।

কীভাবে বুঝবেন?

বন্ধুর ঈর্ষান্বিত হওয়ার লক্ষণগুলো লুকিয়ে থাকে তাদের আচরণ, কথাবার্তা ও চলাফেরার ভেতরেই।

· আপনার উজ্জ্বল মুহূর্তে তারা ম্লান হয়ে যাবে: আপনার জীবনে কিছু ভালো ঘটলেই যদি দেখেন বন্ধু দূরে সরে যাচ্ছেন, নিছক সামাজিকতায় অভিনন্দন জানাচ্ছে, গ্রুপ প্ল্যানে আপনাকে বাদ দেয়া হচ্ছে, আপনাকে দেখলেই তাদের উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়ছে। এগুলো ঈর্ষার প্রকট সংকেত।

· যোগাযোগে অনিশ্চয়তা: মনোবিজ্ঞানী প্যাট্রিস লে গয়ের ভাষায় ঈর্ষান্বিত বন্ধুর যোগাযোগ অনিয়মিত হয়ে পড়ে। সুখের সময়ে আপনাকে একা ছেড়ে দিলেও সংকটে খুব পাশে থাকার চেষ্টা করে। তাদের কথায় থাকে ব্যঙ্গ কিংবা খোঁচার ছাপ। আপনার অর্জনকে ছোট করে দেখার পাশাপাশি আপনাকে অপরাধবোধে ভোগানোর চেষ্টা করবে। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ, মাঝে মাঝে মনে হতে পারে আপনাকে যেন অন্য বন্ধুদের থেকে আলাদা করে রাখতে চাইছে তারা।

· সামাজিক সাফল্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া: আপনি কোন কিছুতে খুশি হলে, সফল হলে তারা এর ভেতরেও ত্রুটি খুঁজে বের করবে। এমন মন্তব্য আনন্দের মাঝেও কাঁটা হয়ে বিঁধে থাকে। আর ধীরে ধীরে আত্মরক্ষার মানসিকতা তৈরি হয়।

বন্ধুর ঈর্ষায় বন্ধুত্বে পরিবর্তন:

  • আত্মবিশ্বাস কমে যায়
  • নিজের সাফল্য নিয়ে অপরাধবোধ তৈরি হয়
  • বন্ধুত্বে দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে
  • বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়ে

আর এতে সময় যত গড়ায়, সম্পর্ক তত ভারী হয়ে ওঠে।

সমাধান—

· প্রথমে ভাবুন—বন্ধুত্বটি রাখার মতো কি না। কোন সম্পর্কই আজীবন টিকে থাকে না। যদি ইতিবাচকতা না থাকে, তবে ছাড়তে শেখাও এক ধরনের আত্মসম্মান।

· সম্ভব হলে পরিষ্কারভাবে কথা বলুন। অভিযোগ নয়—সহানুভূতি দিয়ে কথা বলাই সমাধানের পথ।

· বন্ধুত্ব কোনো প্রতিযোগিতা নয়, বন্ধুকে নিরাপদ বোধ করান। আপনার নিজের সংগ্রাম শেয়ারকরার পাশাপাশি তাদের আগ্রহ জানুন। প্রয়োজন হলে পাশে দাঁড়ান।

আরও