শীত এলেই আমাদের শরীরের যেসব অংশ সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার হয়, তার মধ্যে পা অন্যতম। ঠাণ্ডা আবহাওয়া, শুষ্ক বাতাস, নিয়মিত পানি কম পান করা আর জুতা-মোজা পরে থাকার কারণে এ সময়ে পায়ের ত্বক দ্রুত রুক্ষ হয়ে যায়। অনেক সময় গোড়ালি ফেটে ব্যথাও হতে পারে। অথচ সামান্য সচেতনতা আর কিছু নিয়ম মানলেই শীতেও পা থাকতে পারে নরম, মসৃণ।
- শীতে পানি ঠাণ্ডা বলে অনেকেই পা ধোয়ার ব্যাপারে অনীহা দেখান। কিন্তু প্রতিদিন অন্তত একবার কুসুম গরম পানি দিয়ে পা ধোয়া জরুরি। সপ্তাহে ২-৩ বার ফুড স্ক্রাবার বা ঘরে তৈরি চিনি–মধুর স্ক্রাব দিয়ে মৃত কোষ তুলে ফেললে ত্বক হবে আরো কোমল।
- শুকনো রুক্ষ পায়ের জন্য ১০-১৫ মিনিটের ফুট সোক দারুণ কার্যকর। এক বালতি কুসুম গরম পানিতে লবণ, কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল, লেবুর রস আর এক চা চামচ কোমল শ্যাম্পু মিশিয়ে নিন। তাতে পা ডুবিয়ে রেখে ঝামা দিয়ে গোড়ালি ঘষে ফেলুন। এতে পায়ের ত্বক নরম হয়, ব্যাকটেরিয়া কমে সেইসঙ্গে রিল্যাক্সেশনও পাওয়া যায়।
- শীতে পায়ের ত্বক দ্রুত আর্দ্রতা হারায়। তাই ধোয়ার পরই সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। শিয়া বাটার, গ্লিসারিন, কোকো বাটার বা নারকেল তেলযুক্ত ক্রিম রাতে মোটা করে লাগিয়ে মোজা পরে ঘুমালে সকালে পা থাকবে নরম ও মসৃণ।
- গোড়ালি ফাটলে ব্যথা হওয়া ছাড়াও ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে। ফাটা গোড়ালির জন্য বিশেষ ক্রিম, ইউরিয়া–সমৃদ্ধ লোশন, বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করে মোজা পরলে দ্রুত উপকার মেলে। খুব বেশি ফাটলে পায়ের ত্বকের মৃত কোষ সাবধানে তুলে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
- শীতে জুতা-মোজা পা-কে সারাদিন সুরক্ষিত রাখে। তাই কটন বা উলের মোজা ব্যবহার করুন। ভেজা মোজা কখনোই পরবেন না। পা ঢেকে রাখে এমন জুতা পরলে ধুলা-ময়লা লাগবে না সেইসঙ্গে শীতেও সুরক্ষিত থাকবে।
- শীতের অনেকের পা ঘেমে দুর্গন্ধ হয়, সেক্ষেত্রে মোজা পরার আগে বড়ি স্প্রে, ডিওডরেন্ট বা পাউডার দিয়ে নিতে পারেন।
- শরীরের ভেতরে পানি কম হলে ত্বক যাই ব্যবহার করুন না কেন, শুষ্কতা কমবে না। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে পায়ের ত্বকও ভেতর থেকে হাইড্রেটেড থাকে।
- শীতে নখে ফাঙ্গাস বা ইনগ্রোন নখের সমস্যা বাড়তে পারে। নিয়মিত নখ কাটুন, নখের গোড়া পরিষ্কার রাখুন।
- রুমে স্যান্ডেল পরার অভ্যাস করুন। পা ফাটার সমস্যা জটিল আকার ধারণ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।