গ্রীষ্মকালে ঠান্ডা তরমুজের একটি টুকরো যতটা সতেজ অনুভূতি দেয়, খুব কম খাবারই তা দিতে পারে। আকারে বড় হওয়ায় সাধারণত কয়েক দফায় খাওয়া হয় এ রসালো ফল। স্বভাবত সংরক্ষণের দায়িত্ব পড়ে ফ্রিজের ওপর। অনেকেই ফালি ফালি করে কেটে ফ্রিজে দেন তরমুজ। তবে কারো কারো মনে প্রশ্ন রয়েছে, ফ্রিজে কেটে রাখা তরমুজ খাওয়া কতটা নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংরক্ষেণের মূল বিষয় হলো গরম আবহাওয়ায় তরমুজ কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হচ্ছে—সে বিষয়ে সতর্ক থাকা।
তাদের মতে, তরমুজ নিরাপদ খাদ্য, কিন্তু একবার কেটে ফেললে এটি সহজেই দূষণের ঝুঁকিতে পড়ে। এর উচ্চ জলীয় ও চিনি উপাদান ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যদি ফলটি খোলা অবস্থায় রাখা হয় বা ঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হয়।
ভারতীয় পুষ্টিবিদ রূপালি দত্ত ব্যাখ্যা করেন, খাদ্য নিরাপত্তা মূলত সঠিক সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার ওপর নির্ভর করে। তার মতে, গ্রীষ্মকালে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায় এবং খাবার ঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা স্বাস্থ্যের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি পরামর্শ দেন, তরমুজ কাটার আগে অবশ্যই ধুয়ে নিতে হবে এবং কাটার পর সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজে রাখতে হবে। দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দিলে দূষণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
রূপালি দত্ত জানান, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল এবং শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। এমনকি হালকা উপসর্গ যেমন অস্বস্তি বা বমি হলেও তা গুরুত্বসহকারে নেয়া উচিত এবং দ্রুত চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন।
প্রথম ধাপ হলো সঠিক ফল নির্বাচন করা। তাজা, শক্ত ও দৃশ্যমান কোনো ক্ষত বা ফাটল নেই এমন তরমুজ দূষণের সম্ভাবনা কম থাকে। কাটার আগে ফলের বাইরের খোসা ভালোভাবে পরিষ্কার করাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ খোসায় থাকা ব্যাকটেরিয়া ভেতরের অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
একবার কেটে ফেলার পর সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন—
* কাটার আগে হাত ধোয়া এবং পরিষ্কার ছুরি ব্যবহার করা
* দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় রাখা আগে থেকে কাটা তরমুজ এড়িয়ে চলা
* কাটা অংশগুলো বায়ুরোধী পাত্রে (এয়ারটাইট কনটেইনারে) ফ্রিজে রাখা
* বাইরে ফেলে না রেখে অল্প সময়ের মধ্যে খেয়ে ফেলা
সঠিকভাবে খেলে তরমুজ একটি স্বাস্থ্যকর ফল। গরমে শরীরকে হাইড্রেট রাখতে ভূমিকা রাখে এটি। ফল নির্বাচন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ পর্যন্ত কিছু সহজ সতর্কতা তরমুজের সম্ভাব্য ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।
সব মিলিয়ে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা ফল এড়িয়ে না গিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও সংরক্ষণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে মৌসুমে এটি নিরাপদভাবে উপভোগ করা যায়।
এনডিটিভি অবলম্বনে