বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বৃদ্ধিসহ নানান অসঙ্গতির কারণে আমাদের দেশের পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ঘাটতি রয়েছে। যে কারণে ২৪/৭ বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না প্ল্যান্টগুলো। ফলাফল- লোডশেডিং। আর তাই নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পেতে ইন্ট্রিগেটেড পাওয়ার সাপ্লাই (আইপিএস) অথবা সমন্বিত বিদ্যুৎ সরবরাহকের দিকে ছুটছে মানুষ।
আইপিএস মূলত ব্যাটারি ও ইনভার্টারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ জমা করে এবং লোডশেডিং হলে পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
আইপিএসের ধরন
আইপিএস সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে, যার মধ্যে একটি ইলেক্ট্রিক আইপিএস এবং অন্যটি সোলার সিস্টেম আইপিএস। ইলেক্ট্রিক আইপিএস সরাসরি বিদ্যুৎ থেকে চার্জ গ্রহণ করে ব্যাটারিতে স্টোরেজ করে এবং পরবর্তিতে লোডশেডিং এর সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে।
অন্যদিকে সোলার আইপিএস সরাসরি সৌরবিদ্যুৎ থেকে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে চার্জ গ্রহণ করে ব্যাটারিতে জমা করে। সোলার আইপিএস প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করে থাকে।
তবে আমাদের দেশের বাজারে ইলেক্ট্রিক আইপিএসের চেয়ে সোলার আইপিএস তুলনামূলক দাম বেশি। সোলার আইপিএস মূলত বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আইপিএস কেনার টিপস
গত কয়েক বছরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও লোডশেডিং এর ভয়াবহতার কারণে বাজারে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেয়েছে আইপিএসের চাহিদা। তবে প্রায়ই তাড়াহুড়োতে অনেকে বিক্রেতার মিষ্টি কথায় গলে ভুল পণ্যটি কিনে বসেন কেউ কেউ। তাই আইপিএস কেনার সময় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখা ভালো, চলুন তা জেনে নেই।
ওয়াট
আইপিএস-ইউপিএস কেনার আগে হিসাব করতে হবে, আপনার ব্যবহৃত ডিভাইসগুলোতে ঠিক কতটুকু বিদ্যুৎ প্রয়োজন এবং কতগুলো ডিভাইস সংযুক্ত করা হবে। যদি যোগানের চেয়ে চাহিদা বেশি হয়, তাহলে প্রয়োজন পূরণ হবে না। তাই হিসাব করার সময় ডিভাইসগুলোর পাওয়ার বা ওয়াটশক্তি পরিমাপ করে নিতে হবে। বেশিরভাগ সময় পণ্যের ওপরেই এগুলো লেখা থাকে, যার ওপর ভিত্তি করে ব্যবহার অভ্যেস বদলে নেয়া যায়।
ভোল্টেজ
সব ধরনের আইপিএসের ভোল্টেজ ইনপুট ও আউটপুট ক্যাপাসিটি এক হয় না। আইপিএস এর স্ট্যান্ডার্ড ভোল্টেজের মাত্রা ১০০ ভোল্ট থেকে ৩০০ ভোল্ট পর্যন্ত হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে বাসার কিংবা অফিসের বিদ্যুতের ভোল্টেজ এর চেয়ে বেশি না হয়।
ব্যাটারি
আইপিএসের মূল অংশই হচ্ছে ব্যাটারি। ব্যাটারির অ্যাম্পিয়ার সম্পূর্ণ নির্ভর করে ব্যবহারকারীর চাহিদার উপরে। প্রয়োজন যত বেশি হবে ব্যাটারির সংখ্যা তত বাড়াতে হবে।
চার্জ নিয়ন্ত্রণ
ইনভার্টার আইপিএসের চার্জ নিয়ন্ত্রণ করে। এর ভিতরে থাকা রিলে এবং সিলিকন কন্ট্রোল্ড রেক্টিফায়ার (এসসিআর) চার্জিং সিস্টেম পরিচালনা করে। তবে পুরনো ধরনের আইপিএস রিলে ব্যবহার হয়। আধুনিক আইপিএসগুলোতে এসিআর ব্যবহার করা হয়। এটি অনেক বেশি নির্ভুল, টেকসই এবং স্মার্টলি চার্জ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
ওয়ারেন্টি
আইপিএসের স্থায়িত্ব ব্যাটারি যতক্ষণ চলে, ততক্ষণ। এর সব ধরনের ওয়ারেন্টিই ব্যাটারির জীবনচক্রের ওপর নির্ভর করে। এই ব্যাটারিগুলো ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে কাজ করা বন্ধ করে দেয়, এ বিষয়টি মাথায় রেখেই আইপিএস কেনা উচিত।
বাজারে আইপিএসের দাম
আমাদের দেশের বাজারে বর্তমানে সিঙ্গার, ওয়ালটন, নাভানা, ফিলিপস, সুকান, লুমিনাস প্রভৃতি ব্র্যান্ডেরিআইপিএস পাওয়া যায়। ভালো মানের আইপিএসের দাম মোটামুটি ৩৪ হাজার থেকে শুরু হয়। তবে দেশের বাজারে ৮ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দামের আইপিএস রয়েছে। দরদাম মূলত নির্ভর করে সঠিক ফিচার এবং ক্রেতার চাহিদার ওপর।
আবার স্থানীয় উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে চাইলে নিজের পছন্দমতো ওয়াটের আআপিএস বানিয়েও নিতে পারবেন।