অপুষ্টিকে ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী শিশুস্বাস্থ্যের বড় সংকট এখন স্থূলতা: ইউনিসেফ

ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুসরণের মাধ্যমে করা পর্যালোচনায় বলা হয়, বর্তমানে প্রতি ১০ জন স্কুলপড়ুয়া শিশু ও কিশোর-কিশোরীর মধ্যে একজন স্থূলতায় ভুগছে। সে অনুযায়ী বিশ্বে এখন স্থূলতায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৮০ লাখে। এসব শিশু এখন ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী স্কুলপড়ুয়া শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যে স্থূলতা এখন অপুষ্টির চেয়েও বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। এজন্য এক প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও খাদ্য পরিবেশকে দায়ী করছে সংস্থাটি। খবর রয়টার্স।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকদের ২০০০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ইউনিসেফ। আর ২০২২ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সময়ের চিত্রকে বিশ্লেষণের জন্য আগের ১২ বছরের (২০১০-২০২২) প্রবণতাকে হিসাবে নেয়া হয়। এর আগে ২০১৭ সালে এমন এক সমীক্ষার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থূলতা বৈশ্বিক শিশুস্বাস্থ্যে বড় ও বিস্তৃত সংকট হয়ে উঠতে যাচ্ছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুসরণের মাধ্যমে করা পর্যালোচনায় বলা হয়, বর্তমানে প্রতি ১০ জন স্কুলপড়ুয়া শিশু ও কিশোর-কিশোরীর মধ্যে একজন স্থূলতায় ভুগছে। সে অনুযায়ী বিশ্বে এখন স্থূলতায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৮০ লাখে। এসব শিশু এখন ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

নিউইয়র্কে ইউনিসেফের সদরদপ্তর ছবি: রয়টার্স

ইউনিসেফ জানায়, ২০০০ সালে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে। সে অনুযায়ী শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্থূলতার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনগুণেরও বেশিতে। অন্যদিকে, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে অপুষ্টির হার ২০০০ সালের প্রায় ১৩ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ৯ দশমিক ২ শতাংশে। সে অনুযায়ী স্থূলতার প্রকোপ বাড়লেও এখনো বৈশ্বিক শিশুস্বাস্থ্যে বড় সংকট হয়ে রয়ে গিয়েছে অপুষ্টি।

এ বিষয়ে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ‘আজকের দিনে আমরা যখন অপুষ্টি নিয়ে আলোচনা করি, তখন সে আলোচনা শুধু কম ওজনের শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না।’

ইউনিসেফের ভাষ্যমতে, সাহারা-দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়া বাদে বিশ্বের সব অঞ্চলে এখন অপুষ্টির চেয়ে স্থূলতার হার বেশি। এর মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ নিউয়ে ও কুক আইল্যান্ডসে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার নিয়েছে। সেখানে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের প্রায় ৪০ শতাংশ স্থূলতায় ভুগছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রে এ হার ২১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের মতো কিছু দেশে কিশোর-কিশোরীদের জন্য নতুন ওষুধের মাধ্যমে ওজন কমানোর চিকিৎসা করা হচ্ছে।

শিশু-কিশোরদের স্থূলতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে প্রচুর চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অস্বাস্থ্যকর পণ্যের সর্বব্যাপী প্রচার-প্রচারণাকে দায়ী করছে ইউনিসেফ। এ বিষয়ে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গ্লোবাল হেলথ বিষয়ক অধ্যাপক এবং ‘আল্ট্রা-প্রসেসড পিপল’ বইয়ের লেখক ক্রিস ভ্যান টুলেকেন বলেন, ‘স্থূলতা কোনো বাবা-মা বা শিশুর ব্যর্থতা নয়। এটি এক ধরনের বিষাক্ত খাদ্য পরিবেশের ফল।’

ইউনিসেফ বলেছে, স্থূলতার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বিশ্বব্যাপী সরকারিভাবে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বিপণনে কঠোর নিয়ন্ত্রণের এবং স্কুলগুলোয় জাঙ্কফুড নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপও থাকতে পারে।

আরও