মানুষ জন্মগতভাবে আবেগতাড়িত। আবেগই মানুষকে কোমল করে, শক্তিশালী করে, সম্পর্কের দিকে ঠেলে দেয়, আবার কখনো ভেঙেও দেয়। আবেগকে পুঁজি করে মানুষ পরিবার ও প্রেমের বাইরেও সম্পর্কে জড়ায়। গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব— যা আমাদের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও ভালোবাসার অনুভূতি দেয়। এ ধরনের সম্পর্কে বয়স, অবস্থা বা অবস্থান বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় না। মনোবৈজ্ঞানিক ধারণায় এ সম্পর্ক টিকে থাকে ইন্টারডিপেনডেন্স বা পারস্পরিক নির্ভরতায়।
ইন্টারডিপেনডেন্স কী?
ইন্টারডিপেনডেন্স হলো এমন এক সম্পর্ক যেখানে দুজন মানুষ একসঙ্গে থাকে, কিন্তু কেউই নিজের সত্তা হারিয়ে ফেলে না। এ সম্পর্কে পারস্পরিক আবেগ যেমন মূল্যায়িত হয় তেমনি নিজেদের স্বকীয়তা ধরে রাখার স্বাধীনতাও থাকে। এখানে দুর্বলতা লুকিয়ে রাখার প্রয়োজন পড়ে না; বরং দুজনেই এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে, যেখানে মন খুলে কথা বলা যায়, প্রয়োজন হলে নির্ভর করা যায়। একইসঙ্গে নিজের মূল্যবোধ, দর্শন, পছন্দ অটুট থাকে।
তবে অনেকেই এ নির্ভরতায় বিভ্রান্ত হন। তাদের কাছে—নির্ভর হওয়া মানে কোডিপেনডেন্স। কিন্তু কোডিপেনডেন্স হলো এমন সম্পর্ক, যেখানে—
- এক বা উভয় সঙ্গীর অস্তিত্ব, মূল্যবোধ, আত্মসম্মান অন্যজনের ওপর নির্ভর করে।
- ব্যক্তিগত সীমারেখা থাকে না।
- আবেগের ভারসাম্য রাখতে অন্যজনকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা থাকে।
- সম্পর্ক টালমাটাল হলে প্রবল অপরাধবোধ বা লজ্জা জন্মায়।
এ ধরনের সম্পর্ক মানুষের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। এর বিপরীতে ইন্টারডিপেনডেন্স মানুষকে নিজের মতো করে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি সঙ্গীর কাছে অটল সমর্থন পাওয়ার স্বাধীনতা দেয়।
একটি ইন্টারডিপেনডেন্ট সম্পর্কে অন্ধ নির্ভরতা থাকে না। নিজের আত্মমূল্যবোধ সঙ্গীর হাতে তুলে দিতে হয় না। বরং দুজন মানুষ বুঝে নেয়—কখন পাশে দাঁড়াতে হবে, আর কখন তাকে একা ছাড়তে হবে। এটি একদিকে যেমন নিরাপত্তা দেয়, তেমনই ব্যক্তিত্বকে সমৃদ্ধ করে। সম্পর্কে যাই হয়ে যাক না কেন সঙ্গীর কাছে ফিরে আসার পথ সবসময় খোলা থাকে।
ইন্টারডিপেনডেন্ট সম্পর্কের বৈশিষ্ট্য
- সুস্পষ্ট ব্যক্তিগত সীমারেখা
- পরিষ্কার, খোলামেলা যোগাযোগ
- পরস্পরকে মন দিয়ে শোনার অভ্যাস
- নিজের আচরণের দায় নেয়া
- দুর্বলতা প্রকাশের নিরাপত্তা
- নিজস্ব আগ্রহ, শখ ও লক্ষ্য বজায় রাখা
- আত্মসম্মানবোধ
যখন সম্পর্কের দুজনই নিজেদের মূল্যবান মনে করে, তখনই তা হয় নিরাপদ আশ্রয়।