কফি আর দুধ চায়ের স্বাদকে ছাপিয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে একধরনের সবুজ পানীয়, নাম তার ম্যাচা। জাপানের ঐতিহ্যবাহী এ চা এখন বাংলাদেশের কফিশপ, রেস্টুরেন্ট, এমনকি ঘরোয়া কিচেনেও জায়গা করে নিয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতন প্রজন্মের কাছে এটি হেলদি লাইফস্টাইল-এর অংশ। কিন্তু সবুজ এ পানীয় যতই উপকারী হোক, অতিরিক্ত সেবনে তা শরীরে আয়রনের ভারসাম্য নষ্ট করে।
ম্যাচা কিভাবে তৈরি হয়
ম্যাচা মূলত সবুজ চা পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে তৈরি করা হয়। এতে থাকে ক্যামেলিয়া সিনেনসিস গাছের পাতা, যেখান থেকে সাধারণ গ্রিন টিও তৈরি হয়। তবে পার্থক্য হলো—গ্রিন টিতে শুধু পাতার নির্যাস পান করা হয়, আর ম্যাচায় পুরো পাতা গুঁড়ো করে খাওয়া হয়। তাই এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পলিফেনল, ফাইবার ও ক্যাফেইনের ঘনমাত্রা অনেক বেশি থাকে।
উপকারিতা: এক কাপ ম্যাচার ভেতর শক্তি, মনোযোগ ও সুরক্ষা
গবেষণা বলছে, নিয়মিত কিন্তু পরিমিত ম্যাচা সেবনে—
- মানসিক সতর্কতা ও মনোযোগ বৃদ্ধি পায়,
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে,
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরকে কোষক্ষয় থেকে রক্ষা করে,
- এমনকি এটি হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া এতে থাকা ‘এল-থিয়ানিন’ নামক যৌগ মনকে শান্ত রাখে, মানসিক চাপ কমায়। তাই অনেকে ম্যাচাকে ‘স্মার্ট ক্যাফেইন’ বলেন—যা কফির উত্তেজনা না এনে, এনে দেয় সতেজতা ও স্থিরতা।
আয়রন শোষণে বাধা: লুকিয়ে থাকা বিপদ
তবে এই ভালো দিকগুলোর আড়ালে আছে এক অচেনা ঝুঁকি। ম্যাচা চা আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করে। ম্যাচায় থাকা পলিফেনল ও ফাইটিক অ্যাসিড খাবার থেকে পাওয়া আয়রনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শরীরে তার শোষণ ব্যাহত করে। ফলে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেলেও শরীর তা পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারে না।
যদি প্রতিদিন নিয়মিতভাবে খাবারের সঙ্গে ম্যাচা বা গ্রিন টি পান করা হয়, তাহলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
আয়রন ঘাটতির লক্ষণ
শরীরে আয়রনের অভাব ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। শুরুতে হয়ত বোঝা যায় না, কিন্তু পরে যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে তা হলো—
- অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা মাথা ঘোরা,
- চুল পড়া ও নখ ভেঙে যাওয়া,
- মুখ ও চোখের নিচে ফ্যাকাশে ভাব,
- সামান্য আঘাতেও সহজে কালচে দাগ পড়া।
বিশেষ করে নারীরা মাসিকের কারণে শরীর থেকে আয়রন হারান, ফলে তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
ম্যাচা সম্পূর্ণ বাদ দেয়ার দরকার নেই, বরং সঠিকভাবে পান করাটাই গুরুত্বপূর্ণ।
- খাবারের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচা পান করবেন না। অন্তত এক ঘণ্টা আগে বা পরে পান করুন।
- ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ খাবার (যেমন লেবু, কমলা, টমেটো, কিউই, ক্যাপসিকাম) আয়রন শোষণ বাড়ায়—এসব খাবার আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে রাখুন।
- খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য রাখুন—ডাল, মাংস, মাছ, ডিম, সবজি ও শস্য একসঙ্গে খান।