ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্তের জন্য বিজেপি সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দাবি মানা না হলে দেশব্যাপী নতুন ও বৃহত্তর আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি জানানো হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিজেপি নেতা জেপি নাড্ডা এবং জীতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদলের দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার পর সিজেপির মুখপাত্ররা এ ঘোষণা দেন।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, তারা সরকারের সামনে লিখিতভাবে তিনটি দাবির কথা বলেছেন। এগুলোয় তারা কোনো ছাড় দিতে রাজি নন। দাবিগুলো হলো, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বা অপসারণ, নিট পরীক্ষার অনিয়মের কারণে যেসব শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে, তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা এবং নতুন কোনো মামলা না করার নিশ্চয়তা দেয়া।
সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের মতে, আলোচনার সময় সরকার আশ্বাস দিয়েছে, তারা নীতিগতভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবির সঙ্গে সম্মত। তবে প্রথম দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য তারা আরো সময় চেয়েছে। আগামীকাল শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় এ বিষয়ে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠকে দেশের শিক্ষা খাতে সংস্কারের জন্য পাঁচ দফা এজেন্ডাও উপস্থাপন করেছে সিজেপি। তবে তারা এটাও জোর দিয়ে বলেছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণসহ প্রাথমিক তিনটি দাবি পূরণ হওয়ার পর এগুলো নিয়ে আরো আলোচনা করা হবে।
আজ বিকালে বৈঠকের পরপরই দিল্লির যন্তর মন্তরে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে যারা প্রাণ হারিয়েছে তাদের জন্য কে দায়ী? আমরা উত্তরটা জানি। পুরো দেশ একমত যে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে।
বিজেপি সরকারকে তরুণদের ধৈর্যের পরীক্ষা না নেয়ার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, আমরা তাদের বলেছি, আমরা এ বিষয়ে আর বেশি সময় অপেক্ষা করতে পারব না। ধর্মেন্দ্র প্রধান যদি আগামী এক থেকে দুদিনের মধ্যে পদত্যাগ না করেন, তবে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে এবং তা ২০ জুলাইয়ের আন্দোলনের চেয়েও অনেক বড় হবে। আমরা তাদের সব বুঝিয়ে বলেছি এবং আমরা মনে করি, তারা তা বুঝতে পেরেছে যে, দেশের সবাই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চায়। এর কমে আমাদের কাজ হবে না।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস পিটিআইকে বলেছেন, তারা বৈঠকের সময় বিগত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লি পুলিশের তরুণ বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে আটক করার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যন্তর মন্তর থেকে সাধারণ মানুষ বেরিয়ে আসার সময়, নির্দোষভাবে প্রাঙ্গণে হেঁটে যাওয়ার সময়, এমনকি ফুড ডেলিভারি কর্মীদেরও তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ। কয়েকজন আইনজীবীকেও হেনস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ বিক্ষোভকারী ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে আস্থার অভাব আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। যদিও সরকারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল এ ধরনের ঘটনা ঘটছে তা অস্বীকার করা, তবে তারা প্রতিনিধিদলকে আশ্বাস দিয়েছে, যদি এমনটি ঘটে থাকে, তবে তা আর চলতে দেয়া হবে না।
-দ্য ওয়্যার