শুল্ক হ্রাসে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের ঐকমত্য, বাণিজ্যযুদ্ধে ৯০ দিনের বিরতি

এই ঐতিহাসিক সমঝোতা অনুযায়ী, চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমে দাঁড়াবে ৩০ শতাংশে, আর যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর চীনের শুল্ক হবে মাত্র ১০ শতাংশ।

বিশ্ব অর্থনীতিকে টালমাটাল করে তোলা বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তেজনায় অবসান টানতে এক অভাবনীয় পদক্ষেপে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দুই পরাশক্তি ৯০ দিনের জন্য পারস্পরিকভাবে শুল্ক ১১৫% হারে কমাতে সম্মত হয়েছে। যা এই সংঘাতের বড় ধরনের শান্তিপূর্ণ মোড় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পারস্পরিক উন্মুক্ততা, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে আমরা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাব।‘

জেনেভায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষই আলোচনায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা দেখিয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধি দলের অভিন্ন উপলব্ধি ছিল যে, কেউই বিচ্ছিন্নতা চায় না।‘

এই ৯০ দিনের চুক্তি মূলত ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত অতিরিক্ত শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় নেয়া হয়েছিল। ওই ঘোষণায় চীনা পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ১২৫% পর্যন্ত বাড়ানো হয়, যার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চীনও সমপর্যায়ের ব্যবস্থা নেয়।

চীন কেবল শুল্ক নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপের মতো অশুল্ক পদক্ষেপও নেয়—যেগুলোর ওপর নির্ভরশীল ছিল যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘চীনের প্রতিক্রিয়া ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কার্যত দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যে এটি একপ্রকার নিষেধাজ্ঞা হয়ে দাঁড়ায়।‘

এই ঐতিহাসিক সমঝোতা অনুযায়ী, চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমে দাঁড়াবে ৩০ শতাংশে, আর যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর চীনের শুল্ক হবে মাত্র ১০ শতাংশ। তবে ট্রাম্পের প্রশাসনের আমলে চীনের বিরুদ্ধে ফেন্টানিল সংকটের অভিযোগ তুলে যে ২০% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, সেটি বহাল থাকবে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘এই পদক্ষেপ উভয় দেশের উৎপাদক ও ভোক্তাদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা আশা করি যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতেও একই মানসিকতা বজায় রাখবে এবং একতরফাভাবে শুল্ক বৃদ্ধির ভুল পদক্ষেপ পুরোপুরি সংশোধন করবে।‘

বাণিজ্য বিরতির ঘোষণার পর চীনা মুদ্রা ইউয়ানের মান বেড়ে ছয় মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে চীনে ১ কোটি ৬০ লাখ কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়ত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে দেখা দিত মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের ঘাটতি।

চীনা জাতীয়তাবাদী পত্রিকা গ্লোবাল টাইমসের সাবেক সম্পাদক হু শিজিন সামাজিক মাধ্যমে এই চুক্তিকে ‘সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা রক্ষায় চীনের বড় জয়‘ বলে অভিহিত করেন।

তবে বেইজিংয়ের রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের চোংইয়াং ইনস্টিটিউট ফর ফিনান্সিয়াল স্টাডিজ-এর প্রধান ওয়াং ওয়েন সতর্ক করে বলেন, ‘এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে মূল কাঠামোগত দ্বন্দ্ব সমাধান করে না। ভবিষ্যতে আবারও তীব্র মতবিরোধ হতে পারে।‘

শুল্ক হ্রাসে ঐকমত্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইউরোপীয় শেয়ারবাজারেও উল্লম্ফন দেখা গেছে। জার্মানির ডিএএক্স সূচক বেড়ে ১ দশমিক ৫% এবং ফ্রান্সের সিএসি সূচক ১ দশমিক ২% বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও