ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ একাধিক পশ্চিমা দেশ। আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নাতানিয়াহু এরইমধ্যে এ সিদ্ধান্তকে ‘হামাসের নৃশংস সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করা’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রও এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট।
ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের প্রায় ৭৫ শতাংশ সদস্য রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে। ফিলিস্তিনের নিজস্ব কূটনৈতিক মিশন আছে এবং অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তাদের দল অংশ নেয়। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে ফিলিস্তিনের কোনো নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা, রাজধানী বা সেনাবাহিনী নেই। পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি দখলদারিত্বের কারণে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও রাখতে পারছে না।
এই ‘আধা-রাষ্ট্র’ অবস্থার কারণে, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়া মূলত একটি প্রতীকী পদক্ষেপ। এটি একটি শক্তিশালী নৈতিক ও রাজনৈতিক বার্তা বহন করলেও তাৎক্ষণিকভাবে ভূখণ্ডে খুব বেশি পরিবর্তন আসবে না। তবে এই প্রতীকী গুরুত্ব অনেক বড়।
যেমন, যুক্তরাজ্যের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি জুলাইয়ে জাতিসংঘে ১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণার কথা উল্লেখ করেন— যেখানে ব্রিটিশ সরকার ফিলিস্তিনে ইহুদি জনগণের জন্য একটি জাতীয় বাসভূমি প্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন দিয়েছিল। একই ঘোষণায় একটি প্রতিশ্রুতিও ছিল যে, ফিলিস্তিনে বিদ্যমান অ-ইহুদি সম্প্রদায়ের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকারের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলা হবে না। ল্যামির মতে, দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে এগিয়ে নিতে ব্রিটেনের এখন বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।
চীন ও রাশিয়া ১৯৮৮ সালেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম ও মাল্টা এবার একই পথে হাঁটছে। ফলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে চারটি-ই ফিলিস্তিনকে সমর্থন করবে। একমাত্র ব্যতিক্রম যুক্তরাষ্ট্র।
গাজায় ভয়াবহ মানবিক সংকট, ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ক্ষোভ এবং পশ্চিমা জনমতের চাপে এবার ব্রিটেনসহ একাধিক দেশ এগিয়ে এসেছে। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি গাজায় যুদ্ধবিরতি, পশ্চিম তীরে দখল বন্ধ ও শান্তি আলোচনার পথে না আসে, তবে তারা একতরফাভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে।
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিরোধিতায় স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এ ধরনের স্বীকৃতি হামাসকে উৎসাহিত করবে এবং ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর দখলে আরো তৎপর করবে। তার এ মন্তব্য ইসরায়েলি বয়ানেরই প্রতিধ্বনি যে, স্বীকৃতি দেয়া মানে ৭ অক্টোবরের হামলার পর"সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করা।
বাস্তবে পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনা কম হলেও পশ্চিমা দেশগুলোর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়ার এ সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলকে চাপের মুখে ফেলবে এবং গাজা যুদ্ধের অবসান ও ভবিষ্যৎ শান্তি প্রক্রিয়ার আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।