বিক্ষোভে উত্তাল তুরস্ক, এরদোয়ানের পদত্যাগ দাবি

তুরস্কের ৮১ প্রদেশের মধ্যে অন্তত ৫৫টিতে, অর্থাৎ দেশের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ জনতা।

ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে তুরস্কের একটি আদালত। এর প্রতিবাদে সড়কে আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটি। সড়কে নেমে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের পদত্যাগ দাবি করেছেন তুরস্কের হাজারো জনতা। খবর বিবিসির।

ইমামোগলুকে এরদোয়ানের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করা হয়। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গত বুধবার তাকে আটক করে সরকার। ওই দিন তার ২০২৮ সালে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে তুরস্কের রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) মনোনয়ন পাওয়ার কথা ছিল।

ইমামোগলুকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত এমন সময় এল যখন তাকে আটকের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে যাচ্ছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতা ও হাজারো বিক্ষোভকারী। তাদের মতে, এটি একটি রাজনৈতিক ও অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ। তাকে আটকের পরই এর প্রতিবাদে দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ।

ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির এক পরিসংখ্যান বলছে, দেশটির ৮১ প্রদেশের মধ্যে অন্তত ৫৫টিতে, অর্থাৎ দেশের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ জনতা। বিক্ষোভ দমনে রাজধানী আঙ্কারাসহ বিভিন্ন শহর থেকে ৩৪৩ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে বলে শনিবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

এর মধ্যে রোববার (২৩ মার্চ) রাতে দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ আন্দোলন দেখল দেশটি। টানা পঞ্চম রাতের মতো ইস্তাম্বুলের সিটি হলের কাছে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তাদের তুরস্কের পতাকা ওড়াতে এবং দাঙ্গা পুলিশের সারির সামনে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস, জলকামান, পেপার স্প্রে ও রাবার বুলেট ছোঁড়া হয়।

এদিকে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের নিন্দা করেছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। সেই সঙ্গে সিএইচপির বিরুদ্ধে 'শান্তি বিঘ্নিত এবং জনগণকে মেরুকরণের' চেষ্টা করার অভিযোগ করেছেন।

তবে প্রেসিডেন্টের হুমকি আর প্রশাসনের বাধার তোয়াক্কা না করেই আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন বিক্ষোভকারীরা। এমনকি, এরদোয়ানের শাসনকে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তুলনা করে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

আরও