নিউজিল্যান্ডে ‘স্যুটকেস মার্ডার’: দুই সন্তানকে হত্যার দায়ে মায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

হত্যাকাণ্ডের পর লি নিজের নাম পরিবর্তন করে নিউজিল্যান্ড ত্যাগ করেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় চলে যান।

২০১৮ সালে আট বছরের ইউনা জো এবং ছয় বছরের মিনু জোকে হত্যা করে তাদের দেহ স্যুটকেসে ভরে পরিত্যক্ত স্টোরেজ ইউনিটে রেখে যান লি। ২০২২ সালে নিলামে স্টোরেজ ইউনিটটি কিনে নেয়া এক দম্পতি স্যুটকেসগুলো খুলে শিশুদের কঙ্কাল পান।

নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে নিজের দুই সন্তানকে হত্যা করে স্যুটকেসে লুকিয়ে রাখার দায়ে অভিযুক্ত হাকিউং লিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০১8 সালে ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের দায়ে গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। রায়ের ফলে ৪৫ বছর বয়সী লিকে কমপক্ষে ১৭ বছর কারাভোগের পরই প্যারোলের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকবে। খবর বিবিসি।

হত্যাকাণ্ডের সময় মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে লি দাবি করলেও হাইকোর্টের বিচারপতি জেফ্রি ভেনিং বলেন, তার মানসিক অবস্থা প্রভাব ফেললেও ঘটনাটি ছিল ‘পরিকল্পিত’। স্বামী ইয়ান জোর মৃত্যুর পর লির মানসিক অবনতি হয় বলে লির আইনজীবীরা আদালতে জানান।

২০১৮ সালে আট বছরের ইউনা জো এবং ছয় বছরের মিনু জোকে হত্যা করে তাদের দেহ স্যুটকেসে ভরে পরিত্যক্ত স্টোরেজ ইউনিটে রেখে যান লি। ২০২২ সালে নিলামে স্টোরেজ ইউনিটটি কিনে নেয়া এক দম্পতি স্যুটকেসগুলো খুলে শিশুদের কঙ্কাল পান।

দুই সপ্তাহব্যাপী শুনানিতে লির আইনজীবীরা জানান, স্বামীর মৃত্যুতে গভীর শোকে লি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, পরিবারটির একসঙ্গে মারা যাওয়া উচিত। তিনি নিজে ও সন্তানদের নরট্রিপটাইলিন নামের একটি অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ মিশিয়ে পান করান। কিন্তু পরিমাণ ভুল হওয়ার কারণে তিনি বেঁচে যান, তবে দুই শিশু মারা যায়।

অন্যদিকে প্রসিকিউশন পক্ষ যুক্তি দেয়, লির কর্মকাণ্ড ছিল ‘একাকী মাতৃত্বের বোঝা থেকে মুক্তির স্বার্থপর প্রচেষ্টা’।

হত্যাকাণ্ডের পর লি নিজের নাম পরিবর্তন করে নিউজিল্যান্ড ত্যাগ করেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় চলে যান। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে নিউজিল্যান্ডে প্রত্যর্পণ করা হয়।

বুধবারের শুনানিতে নিহত শিশুদের পরিবারের যন্ত্রণা উঠে আসে। লির মা চুন জা লি আদালতে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়েকে পরামর্শকের কাছে না নিয়ে যাওয়ার আফসোস তার রয়েছে। ‘সে যদি সত্যিই মরতে চাইত, তবে একাই মরতে পারত। নিরপরাধ শিশুদের কেন সঙ্গে নিল?’—বিবৃতিতে লিখেছেন তিনি।

একটি মানসিক মূল্যায়নে দেখা যায়, ঘটনাকালে লি ‘অস্বাভাবিক ধরনের বিষণ্ণতা’ ও দীর্ঘমেয়াদি শোক প্রতিক্রিয়ায় ভুগছিলেন। বিচারপতি ভেনিং নির্দেশ দিয়েছেন, কারাভোগের সময় লিকে ‘বিশেষ রোগী’ হিসেবে মানসিক চিকিৎসার আওতায় রাখতে হবে।

রায়ে বিচারপতি বলেন, ‘আপনি স্বামীর গুরুতর অসুস্থতা সামলাতে পারেননি। হয়তো শিশুদের উপস্থিতিও আপনাকে হারানো সুখের জীবনের স্থায়ী স্মৃতি মনে করিয়ে দিত, যা সহ্য করতে পারেননি।‘

আরও