দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম ২০২৬ শেষ হয়েছে নানা উত্তেজনা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে। এবারের সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাজনীতি থেকে অর্থনীতি—সবখানেই তার প্রভাব স্পষ্ট ছিল। বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি এবং প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে এই সম্মেলন থেকে ওঠে আসা ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো।
১. ট্রাম্প বনাম ইউরোপের নতুন স্নায়ুযুদ্ধ: গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের অনড় অবস্থান এবং শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে ইউরোপের দেশগুলো এবার একজোট হয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা এখন আর ওয়াশিংটনের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে পারছেন না। নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে ইউরোপ এখন নিজস্ব শক্তি বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে। ইউরোপীয় নেতারা এই ইস্যুতে একজোট হয়ে অবস্থান নেয়ায় ট্রাম্প কিছুটা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের আস্থার সম্পর্ক গভীরভাবে নড়বড়ে হয়ে গেছে।
২. অনিশ্চয়তায় বিশ্ব বাণিজ্য: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'প্রটেকশনিজম' বা সংরক্ষণবাদী নীতির কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। বড় বড় কোম্পানির প্রধান নির্বাহীরা বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ও নিয়মকানুনের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেক দেশ এখন আমেরিকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর কথা ভাবছে।
৩. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: ভয় না সম্ভাবনা: এবারের দাভোসে ইলোন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংয়ের মতো প্রযুক্তিবিদদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এআই-এর কারণে অনেক পুরনো চাকরি চলে গেলেও নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ব্যাপারে আশাবাদী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো আশঙ্কা করছে, এআই বৈষম্য আরো বাড়িয়ে দেবে।
৪. জ্বালানি খাতে তেলের দাপট: সবুজ বা নবায়নযোগ্য জ্বালানির বদলে ট্রাম্প প্রশাসন এখন তেল উত্তোলনে বেশি জোর দিচ্ছে। মার্কিন জ্বালানি সচিবের মতে, বিশ্বজুড়ে তেলের উৎপাদন দ্বিগুণ করা প্রয়োজন। তবে এর বিপরীতে ইলোন মাস্ক দাবি করেছেন, আমেরিকার মাত্র একটি ছোট অংশের মরুভূমি ব্যবহার করে সৌরশক্তির মাধ্যমেই পুরো দেশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
৫. প্রতিরক্ষা ও রহস্যময় অস্ত্র: সামরিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনার মাঝে ট্রাম্প একটি 'গোপন শব্দতরঙ্গ অস্ত্রের' কথা উল্লেখ করেছেন, যা বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইউরোপ ও আমেরিকায় প্রতিরক্ষা খাতে খরচ ও কর্মসংস্থান বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশাও শোনা গেছে। সব মিলিয়ে, ডাভোস ২০২৬ দেখিয়েছে—বিশ্ব এখন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চাপ ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।