রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের ১ হাজার করে যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে। তবে ২০২২ সালের পর এই প্রথম সরাসরি শান্তি আলোচনায় বসেও যুদ্ধ থামানোর ব্যাপারে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
তুরস্কের ইস্তানবুলে ডলমাবাহচে প্রাসাদে হওয়া এই বৈঠকে একদিকে ছিলেন গাঢ় স্যুট পরিহিত রুশ প্রতিনিধিরা, আর অপরপাশে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দল ছিল সামরিক পোশাকে। দুই ঘণ্টার কম সময় স্থায়ী এই আলোচনা শেষ হয় কার্যত অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে।
ইউক্রেন আলোচনার আগে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও রাশিয়া তা প্রত্যাখ্যান করে। বরং মস্কো ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বে বড় রকমের হস্তক্ষেপের দাবিতেই ছিল অনড়।
এই আলোচনাকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য কৌশলগত জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি ইউক্রেনের অনমনীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুকূলে থাকলেন, আবার ইউক্রেনকেও চাপের মুখে রাখলেন।
আলোচনায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রত্যাশা ছিল, তিনি আলোচনার মাধ্যমে পুতিনের কঠোর অবস্থান উন্মোচন করতে পারবেন। কিন্তু ‘পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের আগ পর্যন্ত কিছুই হবে না’— ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে শোনা গেছে কিয়েভে আশাভঙ্গের সুর।
এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্ররা রাশিয়ার অবস্থানকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে নতুন নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্স, জার্মানি ও পোল্যান্ডের নেতারা আলোচনার পরপরই জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন।
পেছনের নাটকীয়তায় জানা গেছে, পুতিন আলোচনার প্রস্তাব দিলেও নিজে না গিয়ে মধ্যম পর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠান। আর এ ঘটনাকে জেলেনস্কি তীব্র সমালোচনা করে ‘নাটক’ বলেও আখ্যা দেন। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের অনুরোধে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল পাঠায় কিয়েভ।
তবে, দুই পক্ষের মধ্যে মূল মতপার্থক্য থেকে গেছে। ইউক্রেন সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে আলোচনার শর্ত চায় এবং পশ্চিমা সহায়তার বিনিময়ে ন্যাটোতে যোগদানের দাবি ত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া বলে, যুদ্ধবিরতি কিয়েভকে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগ দেবে, যা তারা মেনে নিতে নারাজ।
রুশ প্রধান আলোচক ভ্লাদিমির মেদিনস্কি আলোচনায় ইউক্রেনের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলেন এবং ইতিহাস টেনে দীর্ঘ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন।
এ অবস্থায় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়া সরাসরি শীর্ষ বৈঠকের নামে ইউক্রেনকে পাশ কাটিয়ে কিছু নির্ধারণ করে ফেলতে পারে, যা কিয়েভের জন্য হবে নতুন উদ্বেগের কারণ।