মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্যের সুযোগ নিয়ে ‘অতিরিক্ত মুনাফা’ করছে এক্সনমবিল ও শেভরন। গতকাল তিনি বলেন, জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলোর উচিত মুনাফার একটি অংশ সাধারণ মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেয়া। খবর রয়টার্স।
ট্রাম্পের এ মন্তব্যকে জ্বালানি তেল শিল্পের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তুলনায় ব্যতিক্রমী অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটা পছন্দ করি না। শেভরন খুব বেশি অর্থ আয় করছে। এক্সনমবিলও খুব বেশি। অতিরিক্ত মুনাফা করছে।’
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় গত সপ্তাহে দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) রেকর্ড মুনাফার প্রতিবেদন প্রকাশ করে এক্সনমবিল ও শেভরন। তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি কোম্পানি দুটি।
ট্রাম্প অতীতেও বিভিন্ন কোম্পানির ওপর প্রকাশ্য চাপ সৃষ্টি করে ব্যবসায়িক আচরণ পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন। প্রথম মেয়াদে তিনি গাড়ি নির্মাতাদের যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বজায় রাখতে চাপ দেন, প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের অতিরিক্ত ব্যয়ের সমালোচনা করেন এবং ওষুধ কোম্পানিগুলোকে দাম কমানোর আহ্বান জানান।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে এসেও তিনি একই কৌশল অব্যাহত রেখেছেন। আনুষ্ঠানিক সরকারি পদক্ষেপের বদলে প্রেসিডেন্টের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে করপোরেট সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে চেষ্টা করছেন এ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট।
একই দিন শেভরনের প্রধান নির্বাহী মাইক ওয়ার্থের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। মুনাফা নিয়ে অসন্তুষ্টির আগে ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে জানান, ওয়ার্থ জ্বালানি তেল শিল্পে তার প্রশাসনের ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি দেননি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের দূরদর্শিতা, শক্তি ও স্থিতিশীলতা না থাকলে জ্বালানি তেল শিল্প এবং আমাদের দেশ দুটিই ধ্বংস হয়ে যেত।’
তিনি আরো বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভেনেজুয়েলা শেভরন ও মাইককে বের করে দিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা আগের চেয়ে অনেক বড় ও শক্তিশালী হয়ে সেখানে ফিরে গেছে এবং বিপুল অর্থ আয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
শেভরন এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০০৭ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ দেশটির জ্বালানি তেল প্রকল্পগুলো জাতীয়করণ করলে অংশীদার হিসেবে শেভরন সেখানে থেকে যায়। তবে এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপস তখন দেশটি ছেড়ে চলে যায়।
এদিকে মার্কিন তেল শিল্পের সংগঠন আমেরিকান পেট্রলিয়াম ইনস্টিটিউট (এপিআই)-এর এক মুখপাত্র বলেন, ‘বর্তমান জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণ বৈশ্বিক সরবরাহ ও চাহিদা এবং হরমুজ প্রণালি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তা। এর জন্য কোনো একক কোম্পানি দায়ী নয়।’
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। ওই নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় খুচরা মূল্য প্রায় ৪ ডলার ১০ সেন্ট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এ বছরের শুরুতে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে দাম ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বৃহৎ হামলা বাতিল করার ঘোষণা দেয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে যায়। তবে খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম সাধারণত কিছুটা দেরিতে কমে এবং সব সময় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে একই গতিতে পরিবর্তিত হয় না।