লক্ষ্য অর্জিত না হলেও দ্রুত ইরান যুদ্ধের ইতি চান দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন: জরিপ
রয়টার্স ও গবেষণা সংস্থা ইপসোসের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিক মনে করেন, ইরান যুদ্ধ থেকে দ্রুত সরে আসা উচিত। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত না হলেও এমনটি প্রত্যাশা করেন তারা।
গত ২৭-২৯ মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে ৬৬ শতাংশ উত্তরদাতা এ মত দিয়েছেন। অন্যদিকে ২৭ শতাংশ বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ সময় চললেও যুক্তরাষ্ট্রের সব লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। ৬ শতাংশ এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতে নিহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। ছবি: রয়টার্স
জরিপে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও মতভেদ দেখা গেছে। তাদের মধ্যে ৪০ শতাংশ দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে, যদিও এতে লক্ষ্য অপূর্ণ থেকে যেতে পারে। তবে ৫৭ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততার পক্ষে মত দিয়েছেন।
এক মাস ধরে চলা এ যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
১ হাজার ২১ জনের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার বিরোধিতা করেছেন। বিপরীতে ৩৫ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন।
যুদ্ধের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাবগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। মূল্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা গ্যাসবাডির তথ্যানুযায়ী, গত ৩০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম প্রতি গ্যালনে ৪ ডলার ছাড়িয়েছে, যা তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার।
জরিপে অংশ নেয়া তিনজনের মধ্যে দুই মার্কিন মনে করেন, আগামী এক বছরে জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়বে। ৪০ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থকের ধারণা এমন।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকানদের ভোটারদের মুখোমুখি হতে হবে, যেখানে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে তাদের স্বল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা নির্ভর করবে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকের বেশি মনে করেন, এ যুদ্ধ তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর মধ্যে ৩৯ শতাংশ রিপাবলিকানও রয়েছেন।