ইতিহাসের পাতায় ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক মানেই যেন দ্বন্দ্ব, সংঘাত, যুদ্ধ আর অবিশ্বাসের কাহিনী। ১৯৪৭-এর রক্তাক্ত বিভাজনের পর থেকে শুরু হওয়া এই তিক্ত সম্পর্ক একবিংশ শতাব্দীতেও স্থির হয়নি। সম্প্রতি কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র এক সামরিক সংঘাত ঘটে। উভয় দেশই নিজেদের বিজয় দাবি করলেও বাস্তবে এই সংঘাতে কোনো স্পষ্ট বিজয়ী নেই।
যুদ্ধবিরতির ঠিক পরপরই নিজেদের জয় দাবি করে ভারতের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচার শুরু হয়-পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করেছে। কাশ্মীরে সন্ত্রাসীদের ওপর ভারতের সামরিক পদক্ষেপ একটি দৃঢ় ও সাহসী বার্তা দিয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
অন্যদিকে, পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেন, তাদের বাহিনী 'অসাধারণ' সামরিক সাফল্য অর্জন করেছে। ইসলামাবাদের রাস্তায় উদযাপনে মেতে ওঠে স্থানীয় জনগণ। ভারতই যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে দাবি করে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।
দুইদেশের মিডিয়াগুলো পরস্পরের জয়কে বড় করে দেখাতে গিয়ে ফলাও করে প্রচার করতে থাকে প্রতিদ্বন্দ্বীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। তিনটি আধুনিক রাফায়েল যুদ্ধবিমানসহ পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করছে পাকিস্তানি পাইলটরা। অন্যদিকে, ভারত স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে পাল্টা দাবি করছে, তাদের বিমান হামলায় পাকিস্তানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সংঘাতের অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করছেন। যদিও ভারত এ দাবি খাটো করে দেখাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভাইস প্রেসিডেন্ট উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে ফোন করেছিলেন বলে জানান। পাকিস্তান মার্কিন হস্তক্ষেপকে স্বাগত জানালেও ভারত তা প্রত্যাখ্যান করে তাদের জাতীয় গর্ব ও অভ্যন্তরীণ নীতির অংশ হিসেবে দেখিয়েছে।
কাশ্মীরের মর্যাদা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ। ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের প্রস্তাব দিলেও ভারত এতে সাড়া দেয়নি।
সবশেষে, এই সংঘাত স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয়, কাশ্মীর ইস্যুতে উত্তেজনা কেবল চাপা পড়ে থাকে, কিন্তু মিটে যায় না। উভয় পক্ষের বিজয়ের দাবির ভিড়ে পরাজয়টিই যেন ধ্রুবক হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, ভূস্বর্গ কাশ্মীরের ভাগ্যে কেবলই অশ্রু আর সংঘাত।
সিএনএন অবলম্বনে