বিশ্বজুড়ে আলোচিত ওডেব্রেচট দুর্নীতিকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলান্তা হুমালা এবং তার স্ত্রী নাদিন হেরেদিয়াকে মঙ্গলবার ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬২ বছর বয়সী হুমালা এবং তার স্ত্রীকে দুটি নির্বাচনী প্রচারণায় ব্রাজিলের ওডেব্রেচট কোম্পানি ও ভেনেজুয়েলার সরকারের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে অর্থপাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
এদিন রায় ঘোষণার পর আদালত কক্ষ থেকেই হুমালাকে আটক করা হয়। একই সময় আদালতে অনুপস্থিত হেরেদিয়াকেও গ্রেফতারের নির্দেশ দেন বিচারক নাইকো করোনাদো।
প্রসিকিউটররা হুমালার বিরুদ্ধে ২০১১ সালের নির্বাচনে ওডেব্রেচটের দেওয়া ৩০ লাখ ডলার অবৈধ অর্থ গ্রহণের অভিযোগে ২০ বছরের এবং হেরেদিয়ার বিরুদ্ধে ২৬ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন।
২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা হুমালা ২০২২ সালে ওডেব্রেচট দুর্নীতিকাণ্ডে বিচারের মুখোমুখি হন। এ কেলেঙ্কারিতে দেশটির আরো তিনজন সাবেক প্রেসিডেন্টের নাম জড়িয়েছে।
হুমালা ও হেরেদিয়ার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে, ২০০৬ সালের ব্যর্থ নির্বাচনী প্রচারণায় প্রয়াত ভেনেজুয়েলীয় প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের পাঠানো প্রায় দুই লাখ ডলার অবৈধভাবে ব্যবহার করেছেন তারা। এছাড়া হেরেদিয়ার বিরুদ্ধে ওই অর্থের একটি অংশ দিয়ে সম্পত্তি ক্রয়ের তথ্য গোপনেরও অভিযোগ আনা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে হুমালার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে, হেরেদিয়া তাদের লিমা দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন এবং এই পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশ ‘নিয়মিত যোগাযোগে’ রয়েছে।