যুদ্ধোত্তর ইউক্রেনে সেনা পাঠানো নিয়ে আলোচনার আগেই বিভক্ত ইউরোপ

ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ সামরিক শক্তি জার্মানি এ বৈঠকের আগে অস্পষ্টভাবে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।

এই জোট মোটামুটি তিনটি ভাগে বিভক্ত— সৈন্য মোতায়েনে ইচ্ছুক গোষ্ঠী: এর মধ্যে যুক্তরাজ্য অন্যতম। আছে সৈন্য না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া গোষ্ঠী: এর মধ্যে অন্যতম ইতালি। এছাড়া, জার্মানির মতো অধিকাংশ দেশ এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।

যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের জন্য একটি পরিকল্পিত বহুজাতিক বাহিনী গঠনের বিষয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ বাড়ছে। এই বাহিনীতে নিজ নিজ দেশের পক্ষ থেকে কী ধরনের অবদান রাখা হবে, সে বিষয়ে নেতারা বৃহস্পতিবার আলোচনা করতে প্রস্তুত। ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠিত 'ইচ্ছুকদের জোট' (কোয়ালিশন অব উইলিং) গঠনের পরিকল্পনা এটি। এ জোটের নেতৃত্বে রয়েছে ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

সদস্য দেশগুলো সৈন্য মোতায়েনসহ কী ধরনের অবদান রাখতে ইচ্ছুক, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষ করে, এই বাহিনী পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ভিত্তিতে গঠিত হবে কিনা, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্টতা নেই। পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুসারে, ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনের পাশে থেকে লড়াই করতে বাধ্য থাকবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সহায়তা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ সম্পদ এবং বিমান প্রতিরক্ষা ঢাল গঠনে সহায়তা দেবে। তবে, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই উদ্যোগের নেতৃত্ব ইউরোপকেই নিতে হবে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ আয়োজিত এই বৈঠকে বেশ কয়েকজন নেতা সশরীরে প্যারিসে উপস্থিত থাকবেন এবং অন্যরা ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন। এর আগে বুধবার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের একটি প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র অনুযায়ী, এই জোট মোটামুটি তিনটি ভাগে বিভক্ত— সৈন্য মোতায়েনে ইচ্ছুক গোষ্ঠী: এর মধ্যে যুক্তরাজ্য অন্যতম। আছে সৈন্য না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া গোষ্ঠী: এর মধ্যে অন্যতম ইতালি। এছাড়া, জার্মানির মতো অধিকাংশ দেশ এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।

এলিসি প্রাসাদের একজন কর্মকর্তা জানান, যেসব দেশ নিরাপত্তা গ্যারান্টি দিতে ইচ্ছুক এবং সক্ষম, তারা প্রযুক্তিগত কাজ সম্পন্ন করেছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন যথেষ্ট প্রতিশ্রুতি আছে, যা দিয়ে আমরা আমেরিকানদের বলতে পারি যে— আমরা আমাদের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত, যদি তারা তাদের দায়িত্ব নেয়।‘

ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ সামরিক শক্তি জার্মানি এ বৈঠকের আগে অস্পষ্টভাবে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন সম্প্রতি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছিলেন যে, দেশগুলো ইউক্রেনে সম্ভাব্য সামরিক মোতায়েনের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে। জার্মান কর্মকর্তারা তার এই মন্তব্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সশরীরে যোগ দেয়ার কথা। তিনি এর আগে কোপেনহেগেনে ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, আইসল্যান্ড এবং সুইডেনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দেশের সম্ভাব্য অবদান নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এখন আমরা এটিকে সুনির্দিষ্ট করব—স্থল, আকাশ, সমুদ্র এবং সাইবার স্পেসে কে কী করবে।‘

আরও