বিশ্বের প্রথম ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হতে চলেছে এনভিডিয়া

এনভিডিয়া ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে গত জুলাইয়ে। সে হিসেবে মাত্র তিন মাসের মধ্যে বাজারমূল্যে আরো ১ ট্রিলিয়ন ডলার সংযোজনে সক্ষম হয়েছে কোম্পানিটি। এ উত্থানকে বাজারে এআই খাতের ওপর আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকদের অনেকেই। আবার কেউ কেউ এখানে অতিমূল্যায়ন ঘটছে বলে সতর্কও করছেন। তাদের ভাষ্যমতে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক ১০০ সূচকে এনভিডিয়ার ব্যাপক প্রভাব বিশ্ববাজারে বড় ধসের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এত বড় অংকের মূল্যায়নের অর্থ হলো কোম্পানিটির ওপর প্রত্যাশার বোঝাও এখন অনেক বেশি। এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সামান্যতম হতাশাও বাজারে বড় ধরনের ওলোটপালোটের কারণ হতে পারে।

বিশ্বের প্রথম কোম্পানি হিসেবে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য অর্জনের পথে এনভিডিয়া। এর মধ্য দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উত্থানের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারাভিত্তিক চিপ জায়ান্ট কোম্পানিটির অবস্থান আরো সুসংহত হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর রয়টার্স।

সর্বশেষ কোম্পানিটির সিইও জেনসেন হুয়াং ঘোষণা দেন, ৫০০ বিলিয়ন ডলারের এআই চিপ সরবরাহের অর্ডার পেয়েছে এনভিডিয়া। একই সঙ্গে মার্কিন সরকারের জন্য সাতটি সুপারকম্পিউটারও তৈরি করবে প্রতিষ্ঠানটি। এর পরপরই গতকালের প্রি-মার্কেট লেনদেনে এনভিডিয়ার শেয়ারদর ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে যায়।

বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে প্রভাবশালী কোম্পানিগুলোর একটি এনভিডিয়া। একটি বিশেষায়িত গ্রাফিক্স চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে বর্তমানে বৈশ্বিক এআই শিল্পের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে এনভিডিয়া। বিশ্বের প্রথম ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হওয়ার পথে অ্যাপল, মাইক্রোসফট ও অ্যালফাবেটের মত জায়ান্টদের অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে কোম্পানিটি। আর এর সিইও জেনসেন হুয়াংকে দেখা হচ্ছে সিলিকন ভ্যালির জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৫ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে যাওয়ার অর্থ হলো এনভিডিয়ার বাজারমূল্য এখন গোটা বৈশ্বিক ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারের চেয়েও বেশি। এ অংক ইউরোপের স্টক সূচক স্টক্স ৬০০-এর অধীন কোম্পানিগুলোর মোট সম্পদমূল্যের অর্ধেক।

এনভিডিয়া ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে গত জুলাইয়ে। সে হিসেবে মাত্র তিন মাসের মধ্যে বাজারমূল্যে আরো ১ ট্রিলিয়ন ডলার সংযোজনে সক্ষম হয়েছে কোম্পানিটি। এ উত্থানকে বাজারে এআই খাতের ওপর আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকদের অনেকেই। আবার কেউ কেউ এখানে অতিমূল্যায়ন ঘটছে বলে সতর্কও করছেন। তাদের ভাষ্যমতে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক ১০০ সূচকে এনভিডিয়ার ব্যাপক প্রভাব বিশ্ববাজারে বড় ধসের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এত বড় অংকের মূল্যায়নের অর্থ হলো কোম্পানিটির ওপর প্রত্যাশার বোঝাও এখন অনেক বেশি। এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সামান্যতম হতাশাও বাজারে বড় ধরনের ওলোটপালোটের কারণ হতে পারে।

কোম্পানিটির গত প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন আগামী ১৯ নভেম্বর প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

এরই মধ্যে বৈশ্বিক ভূরাজনীতিরও বড় অংশ হয়ে উঠেছে এনভিডিয়া। উন্নত চিপ রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কোম্পানিটিকে ওয়াশিংটনের এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার করে তুলেছে। এআই প্রযুক্তিতে চীনের প্রবেশাধিকারকে সীমিত করতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন।

এ বিষয়ে টেকনালাইসিস রিসার্চের বিশেষজ্ঞ বব ও’ডনেল বলেন, ‘এনভিডিয়া খুব দক্ষতার সঙ্গে নিজের গল্প ওয়াশিংটনে পৌঁছে দিয়েছে। মার্কিন সরকারকে বোঝানো ও এর সমর্থন অর্জন— দুটোই তারা করেছে। কোম্পানিটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে আলোচিত ও প্রভাবশালী বিষয়গুলোকে স্পর্শ করতে পেরেছে।’

এনভিডিয়া ছাড়া এখন পর্যন্ত আর মাত্র দুটি কোম্পানি ৪ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের মাইলফলক অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। এগুলো হলো অ্যাপল ও মাইক্রোসফট।

আরও