নেপাল সরকারের দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হয়েছিল জেনারেশন জেড আন্দোলন। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সহিংস হয়ে ওঠায় প্রাণ হারিয়েছে ২৯ জন। বিক্ষোভের তীব্রতায় পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। এর মধ্য দিয়ে সরকারেরও পতন হয়েছে।
আর পুরো ঘটনাপ্রবাহের কারণে দেশটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্যে পড়ে গেছে। সরকারি অবকাঠামো, গণমাধ্যম, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের প্রধান কার্যালয় সিংহদরবারে। এ ভবনে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর অবস্থিত। এছাড়া দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত বাসভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
তবে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয়া তরুণ প্রজন্ম ‘জেনারেশন জেড’ বা জেন-জি গোষ্ঠী এসব ধ্বংসযজ্ঞ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। তাদের অনেকের দাবি, বিক্ষোভ ‘সুযোগসন্ধানীরা’ ছিনতাই করেছে।
বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, আন্দোলনটি ‘বহিরাগত সুযোগসন্ধারীরা ছিনিয়ে নিয়েছে’। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও একই মন্তব্য করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বসনেত বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা মূলত তাদের নিয়ন্ত্রণে আনছি, যারা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও বিভিন্ন সহিংসতা চালাচ্ছে।’
বিক্ষোভকারীরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমাদের আন্দোলন অহিংস ছিল এবং থাকবে। এটি শান্তিপূর্ণ নাগরিক অংশগ্রহণের নীতির ওপর ভিত্তি করে।’ তারা জানিয়েছেন, তারা স্বেচ্ছাসেবী হয়ে মাঠে কাজ করছেন, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে, নাগরিকদের সুরক্ষা দেয়া যায় এবং সরকারি সম্পদ রক্ষা করা যায়। আজ বুধবারের পর থেকে তাদের আর কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচি নেই। একই সঙ্গে সেনা ও পুলিশকে প্রয়োজন হলে কারফিউ জারি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করছে সেনাবাহিনী। আর এ জন্য তারা জেন-জি নেতাদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তারা নতুন দাবির তালিকা তৈরি করছেন।
সহিংসতা ও ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে সেনাবাহিনী। সারা দেশে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র। রাজধানীজুড়ে সামরিক চৌকি বসানো হয়েছে। যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। লাউডস্পিকারে ভেসে আসছে সেনাদের সতর্কবাণী—‘বিনা প্রয়োজনে বের হবেন না।’
তবে এরমধ্যেও কিছু তরুণকে রাস্তায় দেখা গেছে। তারা মুখে মাস্ক পরে, হাতে প্লাস্টিকের ব্যাগ নিয়ে বিক্ষোভে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি পরিষ্কার করছে। তাদের অনেকেই বিক্ষোভে অংশ নেয়নি কিন্তু এই আন্দোলন থেকে পরিবর্তন আসুক এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। নেপালের এখন স্বাধীন রাজনৈতিক নেতার প্রয়োজন জানিয়ে উদাহরণ হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহের কথা উল্লেখ করেছেন অনেকে।