যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার নিজেকে ভেনিজুয়েলার 'ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট' হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। গতকাল রোববার (১১ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ একটি অফিশিয়াল পোর্ট্রেট পোস্ট করেন তিনি। সেখানে তার পদের বর্ণনায় লেখা রয়েছে— ‘ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট, দায়িত্ব গ্রহণ: জানুয়ারি ২০২৬।’
ট্রাম্পের পোস্ট করা ছবিটি উইকিপিডিয়ার পেইজের স্ক্রিনশট। কিন্তু উইকিপিডিয়ায় ট্রাম্পের পেইজে পরিচয়ে জায়গায় একাধিক দেশের প্রেসিডেন্ট থাকার কোনো উল্লেখ নেই। সে হিসাবে, ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের পোস্টকৃত ছবিটি সম্পাদিত বা ভুয়া।
উইকিপিডিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের পেইজ।
চলতি বছরের শুরুতেই ৩ জানুয়ারি ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই অভিযানে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের শাসক নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। মাদক পাচার এবং অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে তাদের নিউইয়র্কের একটি আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। ট্রাম্প এর আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, একটি অন্তর্বর্তী সময়ে ভেনিজুয়েলা এবং দেশটির বিশাল তেল সম্পদ তার প্রশাসনই ‘পরিচালনা’ করবে।
মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে দৃশ্যত ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক নীতিতে ওয়াশিংটনের প্রভাব এখন নিরঙ্কুশ। গত কয়েক দিনে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা দল কারাকাস সফর করেছে। অনেক বছর বন্ধ থাকার পর সেখানে পুনরায় মার্কিন দূতাবাস চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দলটি।
ট্রাম্পের প্রোফাইলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ ও ৪৭তম প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি ভেনিজুয়েলার নামটিও যুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এমন নজির বিরল, যেখানে একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নিজেকে অন্য একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে দাবি করছেন। সমালোচকরা বিষয়টিকে ‘আধুনিক সাম্রাজ্যবাদ’ হিসেবে অভিহিত করলেও ট্রাম্প সমর্থকদের দাবি, ভেনিজুয়েলায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই কঠোর পদক্ষেপ জরুরি ছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভেনিজুয়েলার তেল খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই ট্রাম্পের এই অভূতপূর্ব সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য।