ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কহীন দাবির অর্থ পরিশোধে অন্য দেশের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা একটি ‘উসকানিমূলক নজির’ তৈরি করবে।
সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর জুলাইয়ের শুরু থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতেও ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি দেশটির ওপর ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়’ একটি ‘ব্যাপক হামলা’ চালানোর কথা বিবেচনা করছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও কার্গোর ক্ষয়ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের দখল ও নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানি অর্থ দিয়ে পরিশোধ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘এসব ক্ষতির পরিমাণ অনেক বড় হতে পারে। তা সত্ত্বেও এটিই ন্যায়সংগত ও যথাযথ পদক্ষেপ।’
গতকাল সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের বক্তব্যের নিন্দা জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, ‘অন্য একটি দেশের সম্পদ জব্দ করে ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কহীন দাবির অর্থ পরিশোধ করা একটি উসকানিমূলক নজির।’
আরাঘচি বলেন, ‘যারা এ ধরনের তহবিল থেকে লাভবান হচ্ছে বা বিষয়টি উদযাপন করছে, তাদের মনে রাখা উচিত—সরকারগুলো একবার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাকে স্বাভাবিক করে তুললে কারো সম্পদই আর নিরাপদ থাকবে না। এরপর যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, তা সুন্দর বা শান্তিপূর্ণ হবে না।’
ইরানের জব্দ সম্পদের বিষয় নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। যুদ্ধ বন্ধের একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে গত জুনে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ওই সমঝোতা ভেঙে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সরকার কয়েক দশক ধরে ইরানের সম্পদ জব্দ করে রেখেছে। ইরানের মোট কত অর্থ আটকে রয়েছে, তার নির্দিষ্ট হিসাব জানা যায়নি। তবে কোনো কোনো হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার।
১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জিম্মি করার পর প্রথমবারের মতো ইরানি অর্থ জব্দ করে ওয়াশিংটন।
এদিকে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের হামলার পর ইরান ও তাদের হুথি মিত্রদের ‘বড় ধরনের সামরিক শাস্তি’ দেয়ার হুমকি দেন ট্রাম্প।
তবে শুক্রবার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় মেহর নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন দফার ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেখা জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র একটি ট্যাংকার পার হয়েছে। ৭ মে থেকে প্রণালিটি দিয়ে ট্যাংকার চলাচলের এ সংখ্যা সর্বনিম্ন।