অধিকৃত পশ্চিম তীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে এবং ইহুদিদের জন্য জমি কেনা সহজ করতে নতুন পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে ইসরায়েলি সরকার। রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) অনুমোদিত এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিরা কার্যত অধিগ্রহণ বা অঘোষিতভাবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ইসরায়েলের সঙ্গে জুড়ে নেয়া হিসেবে অভিহিত করেছে। খবর রয়টার্স।
১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরায়েল এই ভূখণ্ড দখল করেছিল। তারা এর সঙ্গে নিজেদের বাইবেলীয় ও ঐতিহাসিক সংযোগের দাবি করে থাকে। এর প্রায় ছয় দশক পর পশ্চিম তীরে জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া বা জমির স্বত্ব নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইসরায়েলি মন্ত্রীরা।
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ও বাস্তুচ্যুত করার প্রক্রিয়া আরো সহজ হবে।
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। রবিবার দেশটির সরকার প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়।
অর্থমন্ত্রী স্মোতরিচ পদক্ষেপকে এক ধরনের বিপ্লব হিসেবে দেখছেন। এর মাধ্যমে নিজেদের ভূখণ্ডের সব অংশে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জমি নিবন্ধনের এ পদক্ষেপকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অবৈধভাবে জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশা, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাড়বে স্বচ্ছতা এবং জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতেও সহায়তা করবে।
অন্যদিকে ফিলিস্তিন এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, এটি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের কার্যত একীভূতকরণ। এর মাধ্যমে মূলত অবৈধ বসতি স্থাপনের মাধ্যমে অধিগ্রহণ পাকাপোক্ত করা হবে।
ইসরায়েলি বসতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘পিস নাউ’ বলেছে, এই পদক্ষেপের ফলে পশ্চিম তীরের অর্ধেক এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিরা উচ্ছেদের শিকার হতে পারে বা জমির মালিকানা হারাতে পারে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। যদিও তার প্রশাসন ইসরায়েলের বসতি নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
বর্তমানে পশ্চিম তীরের বড় অংশ ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে গণ্য করেন।
এদিকে চলতি বছরের শেষার্ধে ইসরায়েলে হতে যাচ্ছে নির্বাচন। নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোটের বড় একটি ভোটব্যাংক মূলত রয়েছে অবৈধ বসতিগুলোতে। এ জোটে এমন অনেক সদস্য রয়েছেন, যারা চান ইসরায়েল পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করে নিক।
২০২৪ সালে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত একটি পরামর্শমূলক রায়ে বলেছিল, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব এবং সেখানে গড়ে তোলা বসতি অবৈধ। যদিও আদালতের এই রায় মানা বাধ্যতামূলক নয় এবং বরাবরই ইসরায়েল এ মতের বিরোধিতা করে আসছে।