রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। এছাড়া ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণের চারটি অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ প্রেক্ষাপটে আজ আলাস্কায় বৈঠকে বসবে ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে মস্কোর সঙ্গে ইউক্রেনের তিন বছরব্যাপী যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনা হতে পারে ‘ভূমি বিনিময়’ নিয়েও।
এরইমধ্যে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়া যে ভূখণ্ড বর্তমানে দখল করে রেখেছে তার কিছু অংশ ইউক্রেনকে ফেরত দেয়া হতে পারে, তবে পুরোটা নয়। এর অর্থ, ইউক্রেনকে বর্তমানে তাদের দখলে থাকা কিছু ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দিতে হবে, যা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন।
পুতিন প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসনসহ পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চান তিনি। এর মধ্যে ২০২২ সালে এই চার অঞ্চলের অংশবিশেষ এবং ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে রাশিয়া। যদি কিয়েভ এই শর্ত মেনে নেয়, তবে লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের কিছু এলাকা থেকে ইউক্রেনীয় সেনাদের সরে যেতে হবে, যেখানে বর্তমানে তীব্র লড়াই চলছে।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া এমন এক চুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে যা যুদ্ধকে ‘স্থগিত’ করবে, সেইসঙ্গে রাশিয়াকে দখলকৃত ভূখণ্ড ধরে রাখতে দেবে। পাশাপাশি, পুতিন সবসময়ই দাবি করে আসছেন যে ইউক্রেনকে নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে থাকতে হবে, জেলেনস্কির ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হবে।
রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ বর্গকিমি ভূখণ্ড দখল করে আছে, যা দেশের মোট এলাকার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। সক্রিয় যুদ্ধরেখা খারকিভ, লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসনজুড়ে প্রায় ১,০০০ কিমি বিস্তৃত। রাশিয়া জাপোরিঝিয়া ও খেরসনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এছাড়া খারকিভ, সুমি, মাইকোলাইভ ও দনিপ্রোপেট্রোভস্কের কিছু অংশও রাশিয়ার দখলে। দনবাস অঞ্চলের ৮৮ শতাংশই রাশিয়ার হাতে, যার মধ্যে প্রায় পুরো লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের তিন-চতুর্থাংশ অন্তর্ভুক্ত। ইউক্রেন এখনো দনবাসের প্রায় ৬,৬০০ বর্গকিমি ভূখণ্ড ধরে রেখেছে।
দনবাসে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা থামাতে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা লাইন হলো কস্তিয়ানতিনিভকা থেকে স্লোভিয়ানস্ক পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিমি জুড়ে বিস্তৃত একটি কৌশলগত মহাসড়ক এলাকা। রাশিয়া একাধিকবার এ অঞ্চল দখলের চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ান বাহিনী দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে অগ্রসর হয়ে এই প্রতিরক্ষা ভাঙার চেষ্টা করছে।
আল জাজিরা অবলম্বনে