ইরান যুদ্ধ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি ডলারের বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতিমালা বিল (এনডিএএ) আটকে দিয়েছেন মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন বা পরামর্শ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছেন। খবর রয়টার্স।
বিলটি পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে গতকাল সিনেটে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্কের সিনেটর এবং সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চাক শুমার ভোটের আগে জানান, ট্রাম্প কোনো অনুমোদন, কৌশল ছাড়া এবং সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই এ যুদ্ধ শুরু করেছেন। এ কারণে বিলটির বিপক্ষে ভোট দেবেন।
ভোটে বিলটির পক্ষে ৫০টি এবং বিপক্ষে ৪৬টি ভোট পড়ে। কিন্তু পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার জন্য সিনেটে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট না পাওয়ায় বিলটি এগোতে পারেনি।
ভোটাভুটি ছিল পুরোপুরি দলীয় আনুগত্যনির্ভর। সব রিপাবলিকান সদস্য বিলটির পক্ষে ভোট দেন। তবে সিনেটে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন সিনেটের নিয়ম অনুযায়ী পুনর্বিবেচনার সুযোগ রাখতে কৌশলগত কারণে ‘না’ ভোট দেন।
গত মাসে সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক সিনেট কমিটিতে এনডিএএ নিয়ে আলোচনার সময় ডেমোক্র্যাট দলের নয়জন সদস্য বিলটির বিরোধিতা করেছিলেন। ফলে বিলটি বাধার মুখে পড়বে বলে আগেই ধারণা করা হচ্ছিল। অথচ অতীতে এনডিএএ সাধারণত দুই দলেরই শক্তিশালী সমর্থন পেয়ে এসেছে।
ডেমোক্র্যাটদের আশঙ্কা, এত বড় প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করলে সেটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রতি কংগ্রেসের সমর্থন হিসেবে দেখা হবে।
এমন সময় এ ভোট অনুষ্ঠিত হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সব বন্দর ঘিরে পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ করেছে এবং সংঘাত আরো বাড়িয়ে নতুন করে হামলা শুরু করেছে।
ডেমোক্র্যাটরা আরো অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে মোট ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে নিতে চাইলেও একই সময়ে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য সামাজিক কর্মসূচির বাজেট কমানো হচ্ছে।
এনডিএএতে ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলার অনুমোদনের পাশাপাশি ট্রাম্প বাজেট রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরো ৩৫০ বিলিয়ন ডলার অনুমোদনের জন্য কংগ্রেসের কাছে আবেদন করেছেন। এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়াই অর্থ বরাদ্দ পাস করানো সম্ভব।
বিলটির পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে জন থুন অভিযোগ করেন, ডেমোক্র্যাটরা জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে রাজনৈতিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘বিলটি আমাদের সামরিক বাহিনীকে আজ প্রস্তুত রাখবে এবং আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতাও নিশ্চিত করবে।’
এবারের এনডিএএ-তে রেকর্ড ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা ব্যয়ের অনুমোদন রাখা হয়েছে। এতে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কতটি কেনা হবে, সেনাসদস্যদের বেতন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক হুমকি মোকাবেলার পরিকল্পনাসহ প্রতিরক্ষা খাতের বিস্তৃত বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই এনডিএএ-কে দুই দলের কাছেই ‘অবশ্যই পাস হওয়া’ আইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিবছরই এটি আইনে পরিণত হয়েছে।
তবে এই বিল অনুমোদনের সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। প্রতি বছর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট আলাদাভাবে এনডিএএর নিজস্ব সংস্করণ পাস করে। পরে দুই কক্ষের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা সংস্করণ তৈরি হয়, যা আবার প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ভোটে তোলা হয়।
সমঝোতা বিলটি উভয় কক্ষে পাস হলে সেটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হবে। তিনি চাইলে এতে স্বাক্ষর করে আইন হিসেবে কার্যকর অথবা ভেটো দিতে পারবেন।