গাজায় অপুষ্টিতে অন্তত ৬৬ শিশুর মৃত্যু

খাদ্য, পানি, চিকিৎসা—সবই কাছেই আছে, কিন্তু তাদের কাছে পৌঁছাতে দেয়া হচ্ছে না।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজায় অপুষ্ট শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মে মাসে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী অন্তত ৫,১১৯ শিশুকে তীব্র অপুষ্টি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সংখ্যা এপ্রিলের তুলনায় ৫০ শতাংশ ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১৫০ শতাংশ বেশি।

ইসরায়েলের অবরোধে খাদ্য, দুধ ও পুষ্টিসামগ্রী ঢুকতে না পারায় গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের সময় অপুষ্টিতে অন্তত ৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৮ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। খবর আল জাজিরা।

একই দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর বোমাবর্ষণে আরো অন্তত ৬০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে গাজা শহরের তুফাহ পাড়ায় একাধিক আবাসিক ভবন ধ্বংস করে অন্তত ২০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

গাজার মিডিয়া অফিস জানায়, ইসরায়েল এই অবরোধকে একটি যুদ্ধাপরাধে রূপান্তর করেছে। তারা খাদ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম আটকে দিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের না খাইয়ে মারার অস্ত্র হিসেবে ‘ক্ষুধা’কে ব্যবহার করছে। সংস্থাটি আরো বলেছে, এটি গাজার শিশুদের বিরুদ্ধে চলমান অপরাধ। শিশুরা ধীরে ধীরে ক্ষুধা, রোগ আর মৃত্যুর শিকার হচ্ছে, অথচ বিশ্ব নীরব।

এ পরিস্থিতির জন্য তারা শুধু ইসরায়েলকে নয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিকেও দায়ী করেছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘকে অবিলম্বে গাজার সীমান্ত খুলে দেয়ার জন্য হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে শিশুদের সুরক্ষায় কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজায় অপুষ্ট শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মে মাসে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী অন্তত ৫,১১৯ শিশুকে তীব্র অপুষ্টি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সংখ্যা এপ্রিলের তুলনায় ৫০ শতাংশ ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১৫০ শতাংশ বেশি। সেসময় যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল ও ত্রাণ প্রবেশ করছিল।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ইউনিসেফ পরিচালক এদুয়ার্দ বেইগবেদার বলেন, ‘এই শিশুদের প্রতিটি কেস প্রতিরোধযোগ্য। খাদ্য, পানি, চিকিৎসা—সবই কাছেই আছে, কিন্তু তাদের কাছে পৌঁছাতে দেয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী।’

ইসরায়েলকে অবশ্যই জরুরি ভিত্তিতে সব সীমান্ত দিয়ে ত্রাণ প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান তিনি।

আরও