শুকিয়ে যাচ্ছে ভেনিসের ঐতিহ্যবাহী খালগুলো

ইতালির ভেনিস নগরী বললেই চোখে ভাসে সারি সারি খাল ও বিশেষ ধরনের নৌকা গন্ডোলা। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এখন সংকটাপন্ন ঐতিহ্যবাহী এ জলপথ

ইতালির ভেনিস নগরী বললেই চোখে ভাসে সারি সারি খাল ও বিশেষ ধরনের নৌকা গন্ডোলা। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এখন সংকটাপন্ন ঐতিহ্যবাহী এ জলপথ।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ ধরে শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করছে ইতালিতে। গত গরমের জরুরি অবস্থার পর আরেকটি খরার শঙ্কায় পড়েছে দেশটি।

গবেষক ও পরিবেশবাদী গোষ্ঠী জানিয়েছে, এ বছর আল্পস পর্বতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম তুষারপাত হয়েছে। এর ফলে নতুন করে খরার মুখে পড়ার সতর্কতা জারি হয়েছে।

ভেনিস শহরের বন্যাকে সাধারণত উদ্বেগের প্রধান কারণ মনে করা হয়। কিন্তু এখন হচ্ছে উল্টোটা। অস্বাভাবিকভাবে কম জোয়ারের কারণে খালগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে গন্ডোলা, ওয়াটার ট্যাক্সি ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচল অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

বৃষ্টির অভাব, উচ্চ বায়ুচাপ, পূর্ণিমা ও সামুদ্রিক স্রোতের তারতম্যকে এ বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় লিগামবিয়েন্তে পরিবেশবাদী গ্রুপ জানিয়েছে, নদী ও হ্রদে পানিপ্রবাহের তীব্র সংকট রয়েছে। যার শিকার দেশের দীর্ঘতম নদী পো। এটি উত্তর-পশ্চিমে আল্পস থেকে অ্যাড্রিয়েটিকের দিকে প্রবাহিত হয়। এখন এ নদীতে স্বাভাবিকের তুলনায় পানিপ্রবাহ কমেছে ৬১ শতাংশ।

ছবি: রয়টার্স

গত জুলাই মাসে পোর আশপাশের এলাকায় প্রবাহ কম থাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ইতালি। এর ফলে দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কৃষি প্রভাবিত হয়। ওই সময় ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মধ্যে পড়েছিল দেশটি।

ইতালীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএনআরের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ম্যাসিমিলিয়ানো পাস্কি বলেন, ‘আমরা ২০২০-২১ সালের শীতের পর থেকে উল্লেখ্যযোগ্যভাবে পানিপ্রবাহ সংকটে আছি। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টি দরকার।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আল্পসে বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত হবে বলে জানিয়েছে সাম্প্রতিক পূর্বাভাস।

আরও