গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি

ট্রাম্প এগোলে যৌথ পদক্ষেপের ঘোষণা ইউরোপীয় মিত্রদের

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মিত্র দেশ ডেনমার্কের পাশে দাঁড়াতে ইউরোপীয় অংশীদারদের নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড সে দেশের জনগণের। ডেনমার্ক বা গ্রিনল্যান্ডের সম্মতি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তই গ্রহণযোগ্য নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক আইনের যেকোনো লঙ্ঘন—তা সাইপ্রাস, লাতিন আমেরিকা বা ইউক্রেন যেখানেই হোক, তার বিরুদ্ধে অটল থাকবে।‘

বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখল বা নিয়ন্ত্রণ নেয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের প্রেক্ষিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এর সদস্য দেশগুলো। ফ্রান্স ও জার্মানি জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এ অঞ্চলটি দখল করার চেষ্টা করে, তবে তারা সম্মিলিতভাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। খবর দ্য হিল।

বুধবার ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো ‘ফ্রান্স ইন্টার’ রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মিত্র দেশ ডেনমার্কের পাশে দাঁড়াতে ইউরোপীয় অংশীদারদের নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি নিজে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ভেনিজুয়েলার মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি গ্রিনল্যান্ডে হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।‘

উল্লেখ্য, গত শনিবার মার্কিন বিশেষ বাহিনী ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে যে, গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে।

গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইউরোপীয় মিত্ররা একজোট হয়েছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্ড মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। রাসমুসেন এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেন, ‘চিৎকার বা হুমকি নয়, এখন প্রয়োজন কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন আলোচনা।‘

ডেনমার্ক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যেকোনো জোরপূর্বক পদক্ষেপের পরিণতি হবে ভয়াবহ। এতে ন্যাটোসহ গত ৮০ বছরের নিরাপত্তা সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।

২০১৯ সাল থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের আধিপত্য রুখতে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়ে আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন ট্রাম্প। তবে ডেনমার্ক বা গ্রিনল্যান্ড কোনো পক্ষই এই অঞ্চল বিক্রির বিষয়ে আগ্রহী নয়।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড সে দেশের জনগণের। ডেনমার্ক বা গ্রিনল্যান্ডের সম্মতি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তই গ্রহণযোগ্য নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক আইনের যেকোনো লঙ্ঘন—তা সাইপ্রাস, লাতিন আমেরিকা বা ইউক্রেন যেখানেই হোক, তার বিরুদ্ধে অটল থাকবে।‘

আগামী সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও মার্কিন হাউস স্পিকার মাইক জনসন জানিয়েছেন, তারা কূটনৈতিক পথেই এগোতে চান। তবে হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়নি। গ্রিনল্যান্ডের ৫৭ হাজার মানুষ এবং বিশ্বনেতারা এখন তাকিয়ে আছেন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

আরও