আপাতত পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও ইসরায়েল। তবে গতকাল তেহরান সতর্ক করে দিয়েছে, যদি লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে তারা ফের পাল্টা পদক্ষেপ নেবে। খবর রয়টার্স।
এপ্রিলের পর চলতি সপ্তাহে ইরান ও ইসরায়েলের মুখোমুখি সামরিক অবস্থান ওয়াশিংটনের শান্তি আলোচনাকে বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছিল। এ প্রচেষ্টার লক্ষ্য হলো, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।
হামলা-পাল্টা হামলার খবরে জ্বালানি তেলের দাম একপর্যায়ে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রথম দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শেষ হয়েছে জানানোর পর দাম কমে আসে। একই সঙ্গে প্রায় দুই মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে মার্কিন ডলারও দুর্বল হয়ে পড়ে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত রোববার গভীর রাতে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। তেহরান জানায়, বৈরুতের উপকণ্ঠে হিজবুল্লাহর ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এ আঘাত হানা হয়েছে।
এর পর ইসরায়েল ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা চালায়। ইসরায়েলের দাবি, ওই স্থাপনাটি ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, তারা হাইফা শহরে অবস্থিত একই ধরনের একটি ইসরায়েলি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
সাম্প্রতিক এ উত্তেজনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টাকে আরো জটিল করে তুলেছিল। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা বন্ধে ৮ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতি পূর্ণমাত্রার সংঘর্ষ থামিয়ে দেয়। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিচ্ছিন্ন উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।
ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল ও ইরান—উভয় দেশই অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি চায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত আলোচনা এগোচ্ছে, যদি না অজ্ঞতা বা নির্বুদ্ধিতা এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।’
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। এদিন অ্যাক্সিওসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করলে ইসরায়েল একা পড়ে যেতে পারে।
এদিকে একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা বলেন, প্রয়োজন হলে ইসরায়েল ‘যতদিন লাগে’ অভিযান চালাতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারাও একই ধরনের কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমকে এক সামরিক সূত্র জানিয়েছে, তেহরান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধেও হামলা পুনরায় শুরু করতে পারে।