কেন টেক্সাসের বন্যা এত বিধ্বংসী হলো

টেক্সাসের হিল কান্ট্রি এলাকায় মাটি খুবই অল্প, নিচে চুনাপাথরের কঠিন স্তর আছে, আর অনেক খাড়া উপত্যকা। এ কারণেই কয়েক মিনিটের বৃষ্টিই হঠাৎ প্রলয়ঙ্করী স্রোত তৈরি করতে পারে।

তারা বলছেন, এমন প্রবল বৃষ্টিপাত জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ ফেডারেশনের পরিচালক আরসুম পাঠক বলেন, ‘বাতাস হলো এক বিশাল স্পঞ্জের মতো। তাপমাত্রা যত বাড়ছে, স্পঞ্জ তত বেশি পানি ধরে রাখতে পারছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যা ১০৫ জনের বেশি মানুষের প্রাণ নিয়েছে। সাম্প্রতিক মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ আবহাওয়াজনিত বিপর্যয় হিসেবে এই বন্যাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টি, আকস্মিক স্রোত আর অপ্রস্তুত অবস্থার মিশেলে এই বিপর্যয় ঘটে ফ্ল্যাশ ফ্লাড অ্যালি নামে পরিচিত অঞ্চলে। মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া দফতর ঝুঁকির সঠিক পূর্বাভাস দিলেও বহু মানুষ সতর্কবার্তা পাননি।

তবে এই বন্যা এত বিধ্বংসী হওয়ার কারণ খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, এমন প্রবল বৃষ্টিপাত জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ ফেডারেশনের পরিচালক আরসুম পাঠক বলেন, ‘বাতাস হলো এক বিশাল স্পঞ্জের মতো। তাপমাত্রা যত বাড়ছে, স্পঞ্জ তত বেশি পানি ধরে রাখতে পারছে। আর কোনো ঝড় এলে সেই পানি আরো ভয়ংকর বন্যায় রূপ নিচ্ছে।‘

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, ১৯১০ সালের পর থেকে একদিনের বৃষ্টিপাতের শীর্ষ ১০ ঘটনার মধ্যে ৯টিই ঘটেছে ১৯৯৫ সালের পর। অর্থাৎ, অতি বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়েছে।

বন্যার সময় টেক্সাসের আবহাওয়া অফিসগুলোতে জনবলের সংকট ছিল। ফলে রাতের বেলা সতর্কতা জারির পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে দেরি হয়। তাছাড়া গুয়াডালুপ নদীর তীরে কোনো ফ্ল্যাশ ফ্লাড সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ছিল না, যা পরিস্থিতিকে আরো বিপজ্জনক করে তোলে।

জলবায়ু বিজ্ঞানী ড্যানিয়েল সোয়াইন বলেন, ‘প্রবল বৃষ্টির নির্ভুল স্থান ও সময় কয়েক ঘণ্টা বা দিন আগে বলা বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব নয়। তাই স্থানীয় মানুষদের প্রস্তুত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।‘

এই বন্যার ক্ষয়ক্ষতিতে টেক্সাসের মাটির গঠনেরও প্রভাব আছে। টেক্সাসের হিল কান্ট্রি এলাকায় মাটি খুবই অল্প, নিচে চুনাপাথরের কঠিন স্তর আছে, আর অনেক খাড়া উপত্যকা। এ কারণেই কয়েক মিনিটের বৃষ্টিই হঠাৎ প্রলয়ঙ্করী স্রোত তৈরি করতে পারে। আরসুম পাঠক বলেন, ‘দেশের অন্য কোথাও হলে হয়তো কেবল পানি জমতো, এখানে তা মৃত্যুফাঁদ হয়ে গেল।‘

বন্যা প্রতিরোধে এলাকার নদীর তীর মেরামত, স্থানীয় উদ্ভিদ লাগানো, গাছের সংখ্যা বাড়ানো ও পানি শোষণক্ষম এলাকা বৃদ্ধি করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। টেক্সাসে বন্যা প্রতিরোধ ও পানি ব্যবস্থাপনার হাজার হাজার প্রকল্পের কাজ এখনো বাকি। যার মোট আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলার।

পাঠক বলেন, ‘আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থার বড় অংশই প্রতিক্রিয়া নির্ভর। সময় এসেছে বারবার বন্যা, পুনর্নির্মাণ আর পুনরাবৃত্তির চক্র ভেঙে দূরদর্শী বিনিয়োগে নজর দেয়ার।‘

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন— বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়তে থাকলে এমন দুর্যোগ শুধু আরো ঘন ঘন নয়, আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে

আরও