নেদার‌ল্যান্ডসে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে সংঘর্ষ

কড়াকড়ি অভিবাসন নীতি ও আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর দমনপীড়নের দাবিতে রাজধানী দ্য হেগের রাস্তায় নামেন হাজারো বিক্ষোভকারী। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ।

অভিবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে অস্থির হয়ে উঠেছে নেদারল্যান্ডস। শনিবার কড়াকড়ি অভিবাসন নীতি ও আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর দমনপীড়নের দাবিতে রাজধানী দ্য হেগের রাস্তায় নামেন হাজারো বিক্ষোভকারী। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। খবর বিবিসি।

পুলিশের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, সংঘর্ষে দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। অন্তত ৩০ জনকে সহিংসতার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ পুলিশের ওপর ইট-পাথর ও বোতল নিক্ষেপ করে। নেদারল্যান্ডসের সংবাদসংস্থা এএনপি জানিয়েছে, প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ দ্য হেগ শহরের একটি মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় পুলিশের গাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভে এ সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কোফ। তিনি বলেন, নির্লজ্জ সহিংসতার এ অদ্ভুত চিত্র পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।

ডানপন্থিদের আয়োজিত এ বিক্ষোভে কড়াকড়ি অভিবাসন নীতি ও আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর দমনপীড়নের দাবি জানানো হয়। বিক্ষোভকারীরা ডাচ জাতীয় পতাকা ও চরম ডানপন্থি গোষ্ঠীর পতাকা হাতে নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়ালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্র-বামপন্থি দল ডি৬৬-এর কার্যালয়ের জানালা ভাঙচুর করে। ডানপন্থিদের অনেকেই এ দলকে প্রগতিশীল অভিজাতদের প্রতিনিধি মনে করে।

বিক্ষোভে ডানপন্থি নেতা গির্ট উইল্ডার্সকে বক্তব্য দেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি যাননি। বরং তিনি সামাজিক মাধ্যমে সহিংসতাকে নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এটি মূর্খদের কাজ, একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’ গত নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন উইল্ডার্স। আগামী ২৯ অক্টোবরের ভোটের আগেও জরিপে এগিয়ে আছেন তিনি।

গত জুনে অভিবাসন ইস্যুতেই নেদারল্যান্ডস সরকার ভেঙে পড়ে। উইল্ডার্স তার কট্টর ডানপন্থি পিভিভি দলকে ক্ষমতাসীণ জোট থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ায় সংকট তৈরি হয়। সেসময় উইল্ডার্স আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ১০টি অতিরিক্ত কঠোর ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন— যার মধ্যে আশ্রয়ের আবেদন স্থগিত, নতুন রিসেপশন সেন্টার বন্ধ ও পরিবার পুনর্মিলন সীমিত করাও অন্তর্ভুক্ত ছিল

আরও