ইউক্রেনে রাসায়নিক হামলা চালাতে পারে রাশিয়া- যুক্তরাষ্ট্রের এ আশঙ্কা দুদিন পুরোনো। কিন্তু যদি তা করেই বসে, তাহলে রাশিয়াকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
শুক্রবার এক প্রতিবেদনে বাইডেনের এ হুঁশিয়ারির কথা জানায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। খবরে বলা হয়, বাইডেন তাদের জানান, কিছু গোয়েন্দা তথ্য তার কাছে আছে। কিন্তু তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করবেন না। তবে, রাশিয়া যদি সত্যিই রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার করে; চড়া মূল্য দিতে হবে।
ইউক্রেনে রুশ হামলা সম্ভাব্য হওয়ার আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে কথা বলে আসছিল। হামলার সম্ভাব্য কয়েকটি তারিখও ঘোষণা করে ওয়াশিংটন এবং হোয়াইট হাইস। তবুও এ নিয়ে বিতর্ক ছিল। কিন্তু সব বিতর্ককে পেছনে ফেলে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে অভিযান শুরু করে রাশিয়া।
হামলার শুরুর পর থেকে রাশিয়ার ব্যাংক, তেল-জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে নিষেধাজ্ঞা আনে বিভিন্ন দেশ, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম। কয়েকদিন আগে রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সামনে দিনগুলোতে তিনি কী করবেন, সেটিও দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব।
এদিকে, রাশিয়া তার প্রতিবেশী দেশে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে, এমন তথ্য দিলেও বাস্তবিক কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এ ব্যাপারে সম্প্রতি সতর্ক বার্তা দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি। তিনি বলেন, আমাদের সবার সতর্ক থাকা উচিত।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রই বরং ইউক্রেনে রাসায়নিক অস্ত্র বানাচ্ছে, এমন দাবি করে রাশিয়া। কিন্তু সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে পাল্টা দাবি করেন জেন সাকি।
এদিকে, রুশ বাহিনী ইউক্রেনে জীবাণু অস্ত্রের চিহ্ন সরিয়ে ফেলার তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে বলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে জানান রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনে কমপক্ষে ৩০টি গবেষণাগারের তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে রুশ বাহিনী। এসব গবেষণাগারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে অত্যন্ত বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চলছিল বলেও দাবি ছিল তার। যদিও নিজের দাবির পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি ভাসিলি নেবেনজিয়া।