আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআরসি) ভয়াবহ রূপ নিয়েছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। ইতোমধ্যে দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এর বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়ে ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় পৌঁছেছে ৬০০তে। এ পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। খবর সিএনএন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত তিনটি প্রধান কারণে কঙ্গো বারবার ইবোলার হটস্পটে পরিণত হচ্ছে—বন্যপ্রাণীর মাংস খাওয়া, ঐতিহ্যবাহী শেষকৃত্যের রীতি ও অতিপ্রাকৃত নানা গুজব।
পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম রেইনফরেস্ট কঙ্গোর অববাহিকা, যা ইবোলা ভাইরাসের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র। এ বনাঞ্চলের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রোটিনের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ আসে শিকার করা বন্যপ্রাণী বা ‘বুশমিট’ (যেমন—বাদুড়, বানর, সাজারু) থেকে। ফলে বন্যপ্রাণীর শরীর থেকে মানুষের দেহে ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী এতেনি লঙ্গোন্দো বলেন, ‘এটি তাদের সংস্কৃতির অংশ। বিকল্প খাদ্য না থাকায় চাইলেই তাদের বন্যমাংস খাওয়া বন্ধ করতে বলা যায় না।’
এছাড়া কঙ্গোর চরম দারিদ্র্য ও পূর্বাঞ্চলের সশস্ত্র বিদ্রোহী তৎপরতা চিকিৎসা সেবাকে ব্যাহত করছে। সম্প্রতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত গোমা ও বুকাবু শহরেও ইবোলা রোগী শনাক্তের খবর এসেছে। ভাইরাসের এ বিস্তারের পেছনে স্থানীয় কুসংস্কার ও গুজব বড় ভূমিকা রাখছে। যেমন মনগোয়ালু শহরে গুজব ছড়িয়েছে, একটি ‘ভুতুড়ে কফিন’ দেখার কারণে মানুষ মারা যাচ্ছে! ফলে আক্রান্তরা হাসপাতালে না গিয়ে ওঝা বা প্রার্থনালয়ে ছুটছেন। একই সঙ্গে, মৃত স্বজনকে শেষ বিদায় জানাতে মরদেহ স্পর্শ করার ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক রীতির কারণেও সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, এবার ছড়িয়ে পড়া ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেনটির কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। এরইমধ্যে সংক্রমণ প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে রাজধানী কাম্পালায় মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে।