‘বাধা দিলে ওমানে বোমা হামলা’র হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান আলাদাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যে প্রায় ছয় মাস ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে

মিত্র হিসেবে পরিচিত ওমানকে হুমকি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের আলোচনায় ‘বাধা হয়ে দাঁড়ালে’ দেশটিতে বোমা হামলা চালানো হবে। ফক্স নিউজকে দেয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কঠোর ভাষায় এ হুমকি দেন। খবর বিবিসি।

ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান আলাদাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যে প্রায় ছয় মাস ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদক ট্রে ইয়িংস্টের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন, ‘ওমান যদি বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাব।’

ট্রাম্প ঠিক কোন বিষয়কে তার চুক্তির প্রচেষ্টায় ‘বাধা’ হিসেবে দেখছেন, তা অবশ্য পরিষ্কার নয়।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাহাজ চলাচলের পথের মানচিত্র নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে।’

তিনি জানান, দুই পক্ষ এখন সমঝোতার বিস্তারিত চূড়ান্ত করবে এবং এরপর যৌথ বিবৃতি দেবে।

ওমানও এর আগে আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটি হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত এবং চলমান সংঘাতে নিজেকে নিরপেক্ষ বলে দাবি করে। তবে ইরানের হামলায় ওমানও বেশ কয়েকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে দেশটি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি চলতি মাসের শুরুতে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইরান ক্ষতিপূরণ পায় কিনা তার ওপর। তেহরানের দাবি, দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘন করেছে ওয়াশিংটন।

এর আগে রয়টার্স এক ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের পণ্যের মূল্যের ৫-৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি নেয়ার কথা ভাবছে তেহরান।

ফক্স নিউজকে দেয়া একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরো দাবি করেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি একটি ‘ব্যাকচ্যানেল’ যোগাযোগ রয়েছে।

আইআরজিসি অবশ্য এ দাবি অস্বীকার করেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে দেয়া এক বিবৃতিতে বাহিনীটির এক মুখপাত্র বলেন, ‘আইআরজিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিনদের কোনো আলোচনা হচ্ছে না।’

তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ এবং যুদ্ধের পরাজয় ও হতাশা থেকে তৈরি ‘কল্পনা’ বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কোনো তাড়া নেই বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।

তেহরানের দর কষাকষি সম্পর্কে ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘তারা ভালো পোকার খেলোয়াড়, কিন্তু তারা মারা যাচ্ছে। আমার কোনো সময়সীমা নেই। আমি তাড়াহুড়ো করছি না।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৮ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং অন্তত আংশিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া। তবে এর কিছুদিন পরই দুই পক্ষ আবার হামলা শুরু করলে সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ে। এমওইউ-র মেয়াদ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে।

৮ জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুদ্ধবিরতি ‘শেষ হয়ে গেছে’। নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার পর তিনি ইরানের নেতৃত্বকে ‘আবর্জনা’ ও ‘পাগল’ বলেও আক্রমণ করেন।

আরও