আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলা, বহু হতাহতের দাবি কাবুলের

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে এই অপারেশন চালানো হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজাউড় এবং বান্নু জেলায় পৃথক আত্মঘাতী হামলায় বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় এই কঠোর পদক্ষেপ নিল দেশটির সামরিক বাহিনী।

সীমান্তে ক্রমবর্ধমান জঙ্গি হামলার জবাবে আফগানিস্তান সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আজ রোববার ভোরে পরিচালিত এই অভিযানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অন্তত সাতটি গোপন আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়ার দাবি করেছে ইসলামাবাদ। খবর এপি।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে এই অপারেশন চালানো হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজাউড় এবং বান্নু জেলায় পৃথক আত্মঘাতী হামলায় বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় এই কঠোর পদক্ষেপ নিল দেশটির সামরিক বাহিনী।

অন্যদিকে, কাবুলের তালেবান সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আফগান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দাবি করেছেন, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নানগারহার ও পাক্তিকা প্রদেশে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে, যাতে নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে। তিনি পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।

বিপরীতে, পাকিস্তান সরকারের দাবি, গত কয়েক মাসে পাকিস্তানে হওয়া বড় বড় হামলার পরিকল্পনাকারীরা আফগান মাটিতে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। পাকিস্তান বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, টিটিপি বিদ্রোহীরা আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। যদিও কাবুল এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা ও বিবৃতির ফলে দোহা চুক্তির শর্তাবলী এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

আরও