আবারো পেছাল তালেবান সরকারের ঘোষণা

সরকার গঠনে বিভিন্ন পক্ষের সাথে আলোচনা চালানো হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতা খলিল হাক্কানি জানিয়েছেন, সবপক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই তাদের এই বিলম্ব। বলেন, তালেবান চাইলে একাই সরকার গঠন করতে পারে। তবে আসন্ন সরকারে সবদলের, সবগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে সবপক্ষের সরকার গঠন নিশ্চিত করতেই দেরি হচ্ছে।

আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ২০দিন পরও সরকার গঠন করতে পারেনি তালেবান। প্রথমে শুক্রবার জুমা নামাজের পর ঘোষণার কথা থাকলেও পরে জানানো হয় শনিবার নতুন সরকারের ঘোষণা দেয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত শনিবারও দেয়া হয়নি নতুন সরকারের ঘোষণা। সবশেষ খবর অনুযায়ী নতুন সরকারের ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত। 

শনিবার তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন সরকার গঠনের ঘোষণার জন্য আরো সময় দরকার বলে। তিনি বলেছেন, চুড়ান্ত ঘোষণার সময় পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। মন্ত্রীসভার সদস্যদের নামসহ নতুন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম আগামী সপ্তাহে ঘোষণা দেয়া হবে।

সকলের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সরকার গঠনের চেষ্টা চলছে বলে জানান, তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানান তিনি।

সরকার গঠনে বিভিন্ন পক্ষের সাথে আলোচনা চালানো হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতা খলিল হাক্কানি জানিয়েছেন, সবপক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই তাদের এই বিলম্ব। বলেন, তালেবান চাইলে একাই সরকার গঠন করতে পারে। তবে আসন্ন সরকারে সবদলের, সবগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে সবপক্ষের সরকার গঠন নিশ্চিত করতেই দেরি হচ্ছে।

এরইমধ্যে আফগান জামায়াতের সাবেক নেতা গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার এবং বিদায়ী প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির ভাই তালেবানদের সমর্থন জানিয়েছেন।

তীব্র লড়াইয়ের পরেও পাঞ্জশির উপত্যকা পুরো নিয়ন্ত্রণে না আসা, বেশ কয়েকটি গোষ্ঠীর সাথে সরকার গঠনের আলোচনা ফলপ্রসু না হওয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন নিশ্চিত না হওয়ায় সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় দেরি হচ্ছে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

এর আগে শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক তালেবান নেতার সূত্রে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, তালেবানদের সুপ্রিম লিডার (আমির উল মোমেনিন) হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা হলেও সরকার প্রধান হতে চলেছেন দলটির সহপ্রতিষ্ঠাতা আব্দুল গনি বারাদার। ।

১৫ আগস্ট তালেবানরা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল করার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে পালিয়ে যান দেশটির তত্কালীন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। এরপর ৩১ আগস্ট ডেডলাইন মেনে সরে যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলোর সেনাসদস্যরা। সরিয়ে নেয়া হয় বিদেশিসহ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা প্রায় সোয়া লাখ আফগান নাগরিককে।

 

আরও