দ্য গার্ডিয়ান

ইরানি বিক্ষোভকারীরা কেন প্রতারিত বোধ করছেন

রাজপথে যখন রক্ত ঝরছে, তখন ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তনকে বিক্ষোভকারীরা কেবল ‘রাজনৈতিক নাটক’ হিসেবেই দেখছেন।

‘ট্রাম্প আমাদের সমর্থন দিয়েছেন, আমি যাবই।‘ কিন্তু গত ৮ জানুয়ারি তেহরানে যখন ইন্টারনেট বন্ধ করে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি শুরু করে, তখন কোনো বিদেশী সাহায্য আসেনি। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান শিয়াভাশ। তার মতো অনেকেরই শেষ মুহূর্তের আশা ছিল—হয়তো ট্রাম্পের সাহায্য অচিরেই আসবে।

ইরানের রাজপথে এখন লাশের গন্ধ আর স্বজন হারানোর আর্তনাদ। কিন্তু এই কান্নার সঙ্গে যোগ হয়েছে চরম ক্ষোভ—বিশ্বাসের অমর্যাদার ক্ষোভ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সাহায্য আসছে’ এমন জোরালো আশ্বাসে বুক বেঁধে রাজপথে নেমেছিলেন হাজারো মানুষ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের আবিষ্কার করলেন এক ভয়াবহ মরণফাঁদে।

৩৮ বছর বয়সী শিয়াভাশ শিরজাদ ছিলেন একজন সাধারণ বাবা। এর আগে অনেক বিক্ষোভ দমন হতে দেখলেও এবার তিনি রাজপথে নেমেছিলেন কারণ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিজে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরিবারের বাধা সত্ত্বেও তিনি বলেছিলেন, ‘ট্রাম্প আমাদের সমর্থন দিয়েছেন, আমি যাবই।‘ কিন্তু গত ৮ জানুয়ারি তেহরানে যখন ইন্টারনেট বন্ধ করে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি শুরু করে, তখন কোনো বিদেশী সাহায্য আসেনি। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান শিয়াভাশ। তার মতো অনেকেরই শেষ মুহূর্তের আশা ছিল—হয়তো ট্রাম্পের সাহায্য অচিরেই আসবে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প ইরানি আন্দোলনকারীদের বলেছিলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে নাও’। ঠিক তার একদিন পরই তিনি সুর বদলে ফেলেন। ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ‘কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে না’—এমন মৌখিক আশ্বাস পেয়েই তিনি সামরিক হস্তক্ষেপের পথ থেকে সরে দাঁড়ান। বিক্ষোভকারীদের কাছে এটা ছিল এক বিরাট ধাক্কা। রাজপথে যখন রক্ত ঝরছে, তখন ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তনকে বিক্ষোভকারীরা কেবল ‘রাজনৈতিক নাটক’ হিসেবেই দেখছেন।

তেহরানের রাস্তা এখন জনশূন্য হলেও বাইরে চলছে ব্যাপক ধরপাকড়। অ্যাক্টিভিস্টরা জানাচ্ছেন, ট্রাম্পের নজর অন্যদিকে সরলেই শুরু হবে মৃত্যুদণ্ড। এরই মধ্যে রাষ্ট্রীয় টিভিতে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, আটককৃতরা সুষ্ঠু বিচার পাবেন না এবং বন্দিশালায় তাদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

বিদেশে বসবাসরত ইরানিরা এই পরিস্থিতিকে ‘গালে চড়’ মারার মতো অপমানজনক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, সরকারকে উৎখাত করতে সাহায্য করার বদলে ট্রাম্প এখন তাদের সঙ্গে দর কষাকষি বা কূটনীতিতে লিপ্ত হচ্ছেন। তাদের মতে, ইরানের বর্তমান সরকারকে কোনোভাবে লাইফলাইন দেয়া হলে তা হবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।

আরও