মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, কিছু গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানো প্রয়োজন। কারণ তাদের নিজ দেশ নিতে রাজি নয়। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের অভিবাসী বিষয়ের দুই প্রতিবেদক ক্রিস্টিনা কোক ও টেড হেসন এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছেন। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পর্যালোচনা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, তৃতীয় দেশে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকির মুখে থাকা অন্তত পাঁচজনকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী লাখো অভিবাসীকে বহিষ্কার করা। মার্কিন প্রশাসন এ বিষয়ে তাদেরকে তৃতীয় দেশে বিতাড়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ সুদান ও ইসওয়াতিনির (সাবেক সোয়াজিল্যান্ড) মতো সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোয় দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের পাঠানো হয়েছে।
সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে দণ্ডিত অভিবাসীরা প্রথমে নিজের সাজা ভোগ করেন, পরে তাদের বহিষ্কার করা হয়। দক্ষিণ সুদানে পাঠানো আটজন ও ইসওয়াতিনিতে পাঠানো পাঁচজনের ক্ষেত্রেও এমনটাই হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অবশ্য বছরখানেক আগে কাউকে কাউকে মুক্তিও দেয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ গত জুনে জানায়, কিছু মানুষ এতটাই জঘন্য অপরাধী যে তাদের নিজ দেশও ফিরিয়ে নিতে চায় না। তাই তাদের তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়। এ নিয়ে সমালোচকরা বলছেন, এসব লোককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা আদৌ করা হয়েছিল কিনা, তা স্পষ্ট নয়। বরং এ তৃতীয় দেশে বিতাড়নের ঘটনা অপ্রয়োজনীয় ও নিষ্ঠুরতার উদাহরণ।
রয়টার্স অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে যে মে মাসে লিবিয়ায় পাঠানোর হুমকিতে থাকা অন্তত পাঁচজন ব্যক্তি পরে নিজ নিজ দেশে ফেরত গেছেন। দুজন অভিবাসী, তাদের আত্মীয় ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সাক্ষাৎকার থেকে এমন তথ্য পাওয়া যায়।
একজন মার্কিন বিচারক যখন ট্রাম্প প্রশাসনকে লিবিয়ায় পাঠানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দেন, তখন ভিয়েতনামের দুজন, লাওসের দুজন ও মেক্সিকোর এক অভিবাসীকে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। অবশ্য এ বহিষ্কারের খবর আগে প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ দেশ প্রথমে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করেছিল কিনা বা কেন তাদের লিবিয়ায় পাঠাতে চাওয়া হয়েছিল, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের মুখপাত্র ট্রিশিয়া ম্যাকলাফলিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যদি আপনি অবৈধভাবে আমাদের দেশে এসে আইন লঙ্ঘন করেন, তাহলে আপনি অ্যালিগেটর আলকাত্রাজ, গুয়ান্তানামো বে, দক্ষিণ সুদান বা অন্য কোনো তৃতীয় দেশে গিয়ে সেটি করতে পারেন।’ তিনি এল সালভাদরের কুখ্যাত কারাগার ও ফ্লোরিডার একটি বন্দিশালার কথাও উল্লেখ করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কতজনকে তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে, এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে অনুরোধ করা হলেও স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ কিছু জানায়নি। যদিও কয়েক হাজার অভিবাসীকে মেক্সিকো ও শতাধিক অভিবাসীকে অন্যান্য দেশে পাঠানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, দক্ষিণ সুদানে পাঠানো আটজন পুরুষ কিউবা, লাওস, মেক্সিকো, মিয়ানমার, দক্ষিণ সুদান ও ভিয়েতনামের বাসিন্দা ছিলেন। যদিও দক্ষিণ সুদানে যে ব্যক্তিকে পাঠানো হয়, তাকে সুদানে পাঠানোর আদেশ ছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ আছে। ইসওয়াতিনিতে পাঠানো পাঁচজন ছিলেন কিউবা, জ্যামাইকা, লাওস, ভিয়েতনাম ও ইয়েমেনের নাগরিক।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বলেন, ‘দক্ষিণ সুদান ও ইসওয়াতিনিতে পাঠানো ব্যক্তিরা ছিলেন সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধী। এদের মধ্যে শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিও ছিলেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘এমন জঘন্য অবৈধ অপরাধীদের অপসারণের ফলে আমেরিকান সমাজ আরো নিরাপদ হয়েছে।’