সিরিয়া-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত, সুয়েইদা সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা

ব্যারাক তার ঘোষণায় বলেন, ‘আমরা দ্রুজ, বেদুইন ও সুন্নিদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—তারা যেন অস্ত্র নামিয়ে রাখে এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে এক শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সিরিয়ার নতুন পরিচয় গড়ে তোলে।‘

সিরিয়া ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক। সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সুয়েইদা প্রদেশে কয়েক দিনের বিমান হামলা ও জাতিগত সহিংসতার পর এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে। খবর আল জাজিরা।

শনিবার (১৯ জুলাই) ভোরে এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে ব্যারাক জানান, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে তুরস্ক, জর্ডান ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ।

ব্যারাক তার ঘোষণায় বলেন, ‘আমরা দ্রুজ, বেদুইন ও সুন্নিদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—তারা যেন অস্ত্র নামিয়ে রাখে এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে এক শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সিরিয়ার নতুন পরিচয় গড়ে তোলে।‘

সিরিয়া বা ইসরায়েলের সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখনো এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম সিরিয়ার চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে, ইসরায়েল ৪৮ ঘণ্টার জন্য সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীকে সীমিতভাবে সুয়েইদা জেলায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে।

বুধবার ইসরায়েল সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাসে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর বিমান হামলা চালায়। পাশাপাশি সুয়েইদা অঞ্চলেও সিরিয়ান সরকারি বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

ইসরায়েলের দাবি, তারা সুয়েইদায় বসবাসরত দ্রুজ সম্প্রদায়কে রক্ষার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। সম্প্রতি ওই অঞ্চলে দ্রুজ ও বেদুইন সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সিরিয়ার প্রায় ১০ লাখ ও ইসরায়েলের দেড় লাখ দ্রুজ জনগোষ্ঠীকে ‘ভাই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও আরব দেশগুলোর মধ্যস্থতায় সিরিয়ার সরকার ও দ্রুজ নেতাদের মধ্যে একটি পৃথক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। তবে একই দিন ইসরায়েল সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়ে কমপক্ষে তিনজনকে হত্যা ও ৩৪ জনকে আহত করে।

এই ঘটনার পর সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শাররা বৃহস্পতিবার ভোরে এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, দ্রুজ সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ‘সিরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না, তবে যুদ্ধকে ভয়ও পায় না।‘

আল-শাররা ইসরায়েলের হামলাকে দেশের অভ্যন্তরে বিভক্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা বলে অভিহিত করেন।

শুক্রবার ফের দ্রুজ ও বেদুইন গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হলে সিরিয়ার সরকার সুয়েইদা প্রদেশে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করেছে শান্তি ফিরিয়ে আনতে।

আরও