ইরান পরমাণু অস্ত্র বানাচ্ছে—এমন দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনকেই ‘ভুল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) তুলসি গ্যাবার্ডের কংগ্রেসে দেয়া বিবৃতি সঠিক ছিল না। খবর আল জাজিরা।
তুলসি গ্যাবার্ড গত ২৫ মার্চ কংগ্রেসে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরান বর্তমানে পরমাণু বোমা বানাচ্ছে না এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ২০১৫ সালের পর পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় অনুমোদন দেননি।‘ এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কমিউনিটির আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন।
কিন্তু ট্রাম্প এবার সেই মূল্যায়নকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে শনিবার (২১ জুন) বলেন, ‘তাহলে আমার গোয়েন্দা কমিউনিটিই ভুল। কে বলেছে যে ইরান বোমা বানাচ্ছে না?’ এক সাংবাদিক তখন উত্তরে বলেন, ‘আপনার ডিএনআই, তুলসি গ্যাবার্ড।‘ ট্রাম্প স্পষ্ট বলেন, ‘তিনি ভুল।‘
ট্রাম্প আরো বলেন, ‘ইরান এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে চাইলেই কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে তারা পরমাণু বোমা তৈরি করতে পারবে।‘
তুলসি গ্যাবার্ড পরে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পের অবস্থানকে ঘুরিয়ে সমর্থন করে বলেন, ‘ইরানের সক্ষমতা রয়েছে, তবে তারা এখনো অস্ত্র বানানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি।‘ এই মন্তব্য তার আগের মূল্যায়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। আগে তিনি বলেছিলেন, ইরান এখনো অস্ত্র বানাচ্ছে না।
এ নিয়ে সমালোচকরা বলছেন, একটি দেশের গোয়েন্দা তথ্যের ওপরে প্রেসিডেন্টের এমন অবিশ্বাস ও প্রকাশ্য বিরোধিতা অত্যন্ত বিরল এবং ভয়ানক। আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, ‘এটি শুধু একজন বা একদল লোকের মত নয়—পুরো যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কমিউনিটির সম্মিলিত মূল্যায়ন। প্রেসিডেন্ট সেটিকে যেভাবে এক কথায় বাতিল করছেন, তা নজিরবিহীন।‘
একই সঙ্গে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ইরান-ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র একটি যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করবে কি না, তা নিয়ে তিনি দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল যুদ্ধক্ষেত্রে ভালো করছে, ইরান করছে না—এমন অবস্থায় কাউকে থামাতে বলা কঠিন।‘
আল জাজিরার প্রতিবেদক হেইডি ঝো ক্যাস্ট্রো ওয়াশিংটন ডিসি থেকে জানান, ট্রাম্প কার্যত ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং কূটনৈতিক পথ বেছে নেয়ার আগ্রহ তেমন দেখা যাচ্ছে না।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য সংকট বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর। এবং এই প্রয়াসে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০,০০০ পাউন্ড ওজনের জিবিইউ-৫৭ ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর’ বোমা ও সেটি বহনে সক্ষম বি-২ বোমারু বিমানই একমাত্র কার্যকর উপায়—যার ইঙ্গিত যুদ্ধবিমানে হামলার প্রস্তুতির দিকেও যাচ্ছে।
ইউরোপের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেও ট্রাম্প একরকম গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেন। জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিকদের বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘ইউরোপ সাহায্য করতে পারবে না।‘