থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ রায় দেয়া হয়। খবর আল জাজিরা।
রায়ে বলা হয়েছে, গত বছরের শুরুর দিকে থাকসিন সিনাওয়াত্রার দীর্ঘদিন হাসপাতালে অবস্থান করা আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তা দীর্ঘায়িত করেছিলেন। এ কারণে তাকে এখন কারাগারে যেতে হবে।
আদালতের রায় অনুযায়ী, পুলিশ থাকসিনকে হেফাজতে নেবে। তাকে ব্যাংককের রিমান্ড কারাগারে পাঠানো হতে পারে।
আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন ৭৬ বছর বয়সী এ রাজনতিবিদ। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজ হয়তো আমার আর স্বাধীনতা নেই, কিন্তু চিন্তার স্বাধীনতা আছে—যা দিয়ে আমি দেশের ও জনগণের জন্য কাজ করতে পারি।’
২০০১ সালে থাইল্যাণ্ডের ক্ষমতায় আসেন থাকসিন। তবে ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ২০০৮ সালে থাকসিনকে ১৫ বছরের নির্বাসন দেয়া হয়। ২০২৩ সালে ১৫ বছর নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মোট আট বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। তবে তার বয়স বিবেচনায় রাজা মহা ভাজিরালংকর্ণ শাস্তি কমিয়ে এক বছরে আনেন। কিন্তু স্বাস্থ্যগত অজুহাতে হাসপাতালে ভর্তি থাকার কারণে তিনি একদিনও কারাভোগ কারেননি। সে অপরাধেই আবার তাকে কারাগারে পাঠালেন সুপ্রিম কোর্ট।
সিনাওয়াত্রার কারাগারে প্রত্যাবর্তন তার পরিবারের জন্য সর্বশেষ ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ২৫ বছর ধরে থাই রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা সিনাওয়াত্রা পরিবার সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। গত ২৯ আগস্ট নৈতিকতার লঙ্ঘনের অভিযোগে তার মেয়ে ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে পদচ্যুত করেছে আদালত। এর মধ্য দিয়ে পরিবারটির ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকেও সেনা বা বিচার বিভাগ ক্ষমতাচ্যুত করল।