ব্যয় মেটাতে প্রায় ৮০ বিলিয়ন বা ৮ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন বলে সিনেটরদের জানিয়েছে পেন্টাগন। এ অর্থের বেশির ভাগই ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত খরচের জন্য চাওয়া হচ্ছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় আকারের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন। পেন্টাগনের চাওয়া অর্থ সেই প্রস্তাবের সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যয় যোগ করল। খবর এপি।
হোয়াইট হাউজের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট এখনো কংগ্রেসের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো অনুরোধ পাঠায়নি। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ক্যাপিটল হিলে একাধিক বৈঠকে বিষয়টি তুলেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির মতে, গত সপ্তাহে সিনেটরদের কাছে ইরান যুদ্ধের অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা।
ইরান যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার চাওয়ার উদ্যোগটি এমন এক রাজনৈতিক সময়ে এসেছে, যখন পরিস্থিতি বেশ স্পর্শকাতর। আইনপ্রণেতাদের অনেকেই যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্পর সমঝোতা নিয়ে সন্দিহান এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কেও সতর্ক। এদিকে হোয়াইট হাউজ পেন্টাগনের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বরাদ্দের অনুরোধ করেছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন বলেন, যুদ্ধসংক্রান্ত একটি সম্পূরক ব্যয় প্রস্তাব প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসবে বলে আশা করছেন। প্রস্তাবটি এলে, ‘আমরা তা নিয়ে কাজ করব এবং দেখব কত ভোট পাওয়া যায়।’
থুন বলেন, ‘শুধু ইরান পরিস্থিতির কারণে নয়, তার আগেও আমাদের বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ মজুদ কমে গেছে। সেগুলো পুনরায় পূরণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’
গত সপ্তাহে উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিফেন ফেইনবার্গ কয়েকজন সিনেটরের সঙ্গে ফোনালাপে এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটিকেও জানান, ৮০ বিলিয়ন ডলারের অনুরোধটি অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটে পাঠানো হয়েছে।
তবে অর্থায়ন প্যাকেজটি কংগ্রেসে বাধার মুখে পড়তে পারে। অনেক আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের যুদ্ধের সিদ্ধান্ত সমর্থন করতে রাজি নন এবং যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার সময় পেন্টাগনকে আরো অর্থ দিতে অনিচ্ছুক।
গত মাসে এক শুনানিতে হেগসেথকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে বলেন, মার্কিনরা এ যুদ্ধের বিরোধিতা করছে। আপনারা সেই যুদ্ধের তাদের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত করের অর্থ ব্যয় করছেন।
ইরান যুদ্ধের অর্থায়নের পাশাপাশি রিপাবলিকানরা নিয়মিত বরাদ্দ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার নিশ্চিত করতে চায়। এ ধরনের বরাদ্দ সাধারণত অনুমোদনের জন্য উভয় দলের সমর্থন প্রয়োজন হয়। এর পর তারা দলীয় ভোটের ভিত্তিতে শিগগিরই আরো ৩৫০ বিলিয়ন ডলার অনুমোদনের আশা করছে।
পেন্টাগন বর্তমানে যে অর্থ চাইছে, তা গত মাসে কংগ্রেসে হেগসেথের দেয়া ২৯ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধ ব্যয়ের হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। সেই হিসাবের বেশিরভাগ অংশ ছিল গোলাবারুদ পুনঃসংগ্রহ, সরঞ্জাম মেরামত এবং মোতায়েনকৃত বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার খরচ। তবে এতে অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক স্থাপনা মেরামত বা পুনর্নির্মাণের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
তবে যুদ্ধ শুরুর সময় পেন্টাগনের প্রাথমিক ২০০ বিলিয়ন ডলারের ব্যয় পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক কম। তখন বলা হয়েছিল, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই খরচ হতে পারে ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্বের সদস্য এবং হাওয়াইয়ের সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ বলেন, প্রস্তাবিত ৮০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রকৃত ব্যয় আরো অনেক বেশি হতে পারে ।
তিনি বলেন, ইরানকেন্দ্রিক কোনো বিলের পক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন কতটা রয়েছে তা গণনা করেননি, ‘তবে আমি এখন পর্যন্ত এমন কাউকে পাইনি, যে এটি করতে চায়।’