নীরব প্রার্থনায় হিরোশিমার পারমাণবিক বোমা হামলায় হতাহেতদের স্মরণ করছে জাপান। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘লিটল বয়’ নামের পারমাণবিক বোমা ফেলে হিরোশিমার ওপর। বিস্ফোরণে পুরো নগরী এক নিমিষে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। নিহত হন ৭০ হাজার মানুষ। পরবর্তী কয়েক মাসে তেজস্ক্রিয়তা, পুড়ে যাওয়া ও পানিশূন্যতার কারণে আরো বহু মানুষের মৃত্যু হয়। খবর বিবিসি।
হিরোশিমার পিস মেমোরিয়াল পার্কে আয়োজিত এ বছরের বার্ষিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা। হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাতসুই বলেন, ‘জাপানই একমাত্র জাতি যারা যুদ্ধের সময় পারমাণবিক হামলার শিকার হয়েছে। জাপান সরকার এমন একটি জাতির প্রতিনিধি, যারা প্রকৃত ও স্থায়ী শান্তি কামনা করে।
এদিন পিস পার্কে যাওয়ার পথজুড়ে দেখা গেছে ছোট ছোট প্রতিবাদ মিছিল। স্মরণানুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে হিরোশিমার মেয়র মাতসুই বলেন, বিশ্বজুড়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে সামরিকায়ন। সেইসঙ্গে একটি বিপজ্জনক ধারণা জোর পাচ্ছে, জাতীয় প্রতিরক্ষায় পারমাণবিক অস্ত্র অপরিহার্য। তবে এই প্রবণতা ইতিহাস থেকে শিখে নেয়ার বদলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অর্জিত শান্তি কাঠামো ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বর্তমান সময়ে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি এনপিটি দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি। ২০২১ সালে কার্যকর হওয়া পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে জাপান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মাতসুই। বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে করেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়াসহ পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো এর বিরোধিতা করছে।
জাপান এখনো এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। সরকারের মতে, দেশটির নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ছাতার ওপর নির্ভর করে। এই অবস্থান জাপানের সমাজে গভীর মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে।