নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কংগ্রেসের

রাহুল গান্ধী লিখেছেন, গতকাল (সোমবার) তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ওপর যে বর্বরতা হয়েছে, সেটির জবাব চাইতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে মিছিল করেছি। সরকার কোনো দায়িত্ব নিতে চায় না, আর সংসদে এ নিয়ে আলোচনাও করতে চায় না। ভারতের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিৎ।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) 'সংসদ চলো' পদযাত্রায় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার প্রতিবাদ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে করছেন কংগ্রেস নেতারা। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।

আজ মঙ্গলবার দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে এ বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সেখানে আন্দোলনরত কংগ্রেস নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) প্রতিমন্ত্রী ড. জীতেন্দ্র সিং। এ সময় তার সঙ্গে রাহুল গান্ধীর কথা হলেও তাদের মধ্যে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।

নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ পদত্যাগের দাবিতে এ বিক্ষোভে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারী শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে এবং সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানানো হচ্ছে।

সোমবার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে কয়েক হাজার তরুণ সংসদ অভিমুখে মিছিল করেন। এতে নেতৃত্ব দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। পথে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ারশেল ছুঁড়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন।

এর প্রতিবাদে আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে পদযাত্রা করেন কংগ্রেস নেতারা। লোক কল্যাণ মার্গের কাছে বিপুলসংখ্যক পুলিশের বাধার মুখে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা, কে সি বেণুগোপাল, পবন খেরা, পাঞ্জাব কংগ্রেস প্রধান অমরীন্দ সিং রাজা ওয়ারিং, দীপেন্দর হুডা, কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য ও নেতা অংশ নিয়েছেন।

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরের সড়কে বসে থাকা কংগ্রেস নেতাকর্মীদের সমাবেশের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছেন রাহুল গান্ধী। এ সময় বেশ কয়েকজন নেতা হাত তুলে স্লোগান দিচ্ছিলেন।

এক্সে দেয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, গতকাল (সোমবার) তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ওপর যে বর্বরতা হয়েছে, সেটির জবাব চাইতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে মিছিল করেছি। সরকার কোনো দায়িত্ব নিতে চায় না, আর সংসদে এ নিয়ে আলোচনাও করতে চায় না। ভারতের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিৎ।

বিক্ষোভের আগে ‘এক্স’ (টুইটার)-এ একটি ভিডিও শেয়ার করে কংগ্রেস। এতে দেখা যায়, রাহুল গান্ধী দলের নেতাদের হাতে জিপ টাই (প্লাস্টিকের শক্ত বাঁধন) তুলে দিচ্ছেন, যা পরে নেতারা তাদের কব্জিতে বেঁধে নেন। পুলিশ যাতে সহজে কাউকে আলাদাভাবে আটক করতে না পারে সেজন্যই তাদের এ পদক্ষেপ।

এদিকে, বিক্ষোভকারীরা যাতে অবস্থান বিক্ষোভে যোগ দিতে না পারে, সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাওয়ার পথগুলোতে ব্যারিকেড বসিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এমনকি বিক্ষোভচলাকালে সেখান থেকে কয়েকজনকে আটকেরও ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য কে সুরেশ বলেন, তারা (পুলিশ) আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের আটক করছে। পুলিশের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে পাঞ্জাব কংগ্রেস ক্যাম্পেইন কমিটির চেয়ারম্যান চরঞ্জিত সিং চান্নি বলেন, এটি বিজেপির সন্ত্রাসবাদ। তারা শিক্ষার্থীদের কথা শোনেন না।

কংগ্রেসের আরেক সংসদ সদস্য ইমরান মাসুদও একই অভিযোগ করে। তিনি বলেন, বিরোধীদের ঠেলে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং রাজপথে হোক বা সংসদে—সরকার কোথাও তাদের কথা শুনতে ইচ্ছুক নয় বলেই এ বিক্ষোভ করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছিল।

আরও