সরাসরি আলোচনার ইঙ্গিত পুতিনের, আগে যুদ্ধবিরতি চান জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির পর আমরা যেকোনো ফরম্যাটে আলোচনায় প্রস্তুত।‘

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শান্তি আলোচনার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করলেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন—কোনো যুদ্ধবিরতি ছাড়া তিনি আলোচনায় বসবেন না। খবর আল জাজিরা।

সোমবার (২১ এপ্রিল) রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, তিনি যেকোনো শান্তি উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং আশা করেন, কিয়েভও একই মনোভাব দেখাবে। তবে মঙ্গলবার তার মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, এখনো রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির পর আমরা যেকোনো ফরম্যাটে আলোচনায় প্রস্তুত।‘ তিনি আরো জানান, ইউক্রেন অন্তত ৩০ দিনের জন্য বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে।

সম্প্রতি শেষ হওয়া ৩০ ঘণ্টার রুশ ঘোষিত ‘ইস্টার যুদ্ধবিরতি’ প্রসঙ্গে উভয় পক্ষ একে অপরকে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। এর পরপরই পুতিন আলোচনার ইঙ্গিত দেন। যদিও বেসামরিক স্থাপনাকে সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য ইউক্রেনকে অভিযুক্ত করেন পুতিন।

জেলেনস্কি তার রাতের ভিডিও ভাষণে জানান, ইউক্রেন বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধে আলোচনা করতে প্রস্তুত। একইসঙ্গে তিনি রাশিয়ার কাছ থেকে একট ’স্পষ্ট জবাব’ প্রত্যাশা করেন।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল রাশিয়ার একতরফা দখল ঘোষণার পর জেলেনস্কি একটি ডিক্রি জারি করে পুতিনের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা নিষিদ্ধ করেন। এই প্রেক্ষাপটে পেসকভ বলেন, ‘ইউক্রেন আলোচনায় আগ্রহী হলে তাদের আইনগতভাবে সেই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।‘

লন্ডনে বুধবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও